‘শেখ মুজিব রাষ্ট্রের নাম দিয়েছেন বাংলাদেশ’

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ১৪ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১০:৪৯, ১৪ এপ্রিল ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ এর আজ ৩৮৪ তম প্রতিবেদন।

১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল ঢাকায় পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী, বাংলাদেশবিরোধী মৌলবাদী নেজামে ইসলামী পার্টির প্রধান ফরিদ আহমেদের নেতৃত্বে শান্তি কমিটির পরিচালনা কমিটির সভা হয়। সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানের শত্রু অর্থাৎ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাদের ভাষায় পূর্ব পাকিস্তানীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

এদিন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা করা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ ও হানাদারদের হামলা চলে। রাজশাহীর অদূরে পদ্মাপারের গ্রামগুলোতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ করে সমগ্র এলাকা ধ্বংস করে। প্রায় হাজার দেড়েক মানুষ এসময় নিহত হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী সিলেটের তামাবিল সড়ক ধরে হাবিব নগর, মনিকগঞ্জ এবং খরিস নদীর তীর ঘেষে হেমু গ্রামে অবস্থান নেয়। উদ্দেশ্য ছিল সিলেট শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়া। কিন্তু হানাদারদের সহযোগী স্থানীয় রাজাকার, আলবদররা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের তথ্য জানিয়ে দেয়। ফলে প্রচন্ড লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে। পাকিস্তানী বিমান হামলায় মুক্তিবাহিনীর বহু সদস্য শহীদ হয়।

একাত্তরের এদিন, পাকিস্তানী সেনারা দিনাজপুর শহর পুনরায় দখলের সময় অমানুষিক নির্যাতন চালায় এলাকায় এবং প্রায় দুই হাজার স্থানীয় বাঙালিদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। পাকিস্তানী সেনাদের হাতে এদিন ঝিনাইদহের পতন ঘটে, অর্থাৎ হানাদাররা এলাকাটি তাদের দখলে নেয়। 

আমেরিকার প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “পূর্ব বাংলার বড় বড় শহরগুলোতে ২০ভাগ মানুষ বর্তমানে অবস্থান করছে। অনেকে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে যোগ দিয়েছে। বহুজন নিহত হয়েছে।” অন্যদিকে, ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমসে (???) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিফ্রন্টের পক্ষ থেকে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কলকাতায় অবস্থিত ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশনকে শীঘ্রই অনুরোধ জানানো হবে। শেখ মুজিব এই রাষ্ট্রের নাম দিয়েছেন বাংলাদেশ।”

একাত্তরের এদিন, সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের কাছে পাঠানো এক তারবার্তায় পাকিস্তানের সংহতি বজায় রাখার জন্য ইয়াহিয়া প্রশানকে অভিনন্দন জানায় চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই। তিনি বলেন, “পাকিস্তানে যা ঘটছে তা মূলতঃ অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে চীনের সরকার মনে করে। ভারতের সম্প্রসারণবাদীরা যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক অভিযান শুরু করে তাহলে চীনের জনসাধারণ ও সরকার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ সমর্থন করবে।”

MHS/RB

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধের দাবি ওঠে

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
আখাউড়া চেকপোস্ট দখল করে নেয় পাকবাহিনী

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘পাকিস্তানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
আমেরিকার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান ইয়াহিয়া খান

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছিলো’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *