মানিকগঞ্জে সমাহিত শামসুজ্জামান খান

প্রকাশিত: ০৩:০১, ১৪ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১০:০৪, ১৪ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক-গবেষক এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান আর নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজ (বুধবার) বেলা ২টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে শামসুজ্জামান খানের বয়স হয়েছিলো ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সংখ্যার বিবেচনায় অশতিপর হলেও নানা কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও লোক সংস্কৃতির গবেষক-লেখক ডক্টর শামসুজ্জামান খান। করোনা হানা দেয়ার বছরখানেক ধরে জীবনযাপনে বেশ সতর্ক ছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। 

এ মাসের শুরুর দিকে শামসুজ্জামান খানের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চিকিৎসাধীন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। কিন্তু করোনার কাছে পরাজিত হয়ে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। 

স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছে শামসুজ্জামান খান। মানিকগঞ্জের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরে পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

১৯৪০ সালের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র দু’বছর বয়সে বাবাকে হারান শামসুজ্জামান খান। মা এবং দাদির কাছেই বড় হয়ে ওঠা। 

১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা করেছেন মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও। 

২০০৯ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন শামসুজ্জামান খান। এরপর তিন মেয়াদে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। সবশেষ বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জাতীয় জাদুঘর এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকও ছিলেন শামসুজ্জামান খান। ছিলেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। 

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহ সম্পাদনা করেন এই বিশিষ্ট লোক গবেষক। ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালাও সম্পাদনা করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক। 

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে গেছেন শামসুজ্জামান খান, তবে বেঁচে থাকবেন তাঁর বিপুল কর্মের মাঝে।

FM/JP

এই বিভাগের আরো খবর

আগামীকাল ঈদ, এবারও মসজিদে হবে জামাত

আশিক মাহমুদ: এবারও এক ভিন্ন বাস্তবতায়...

বিস্তারিত
বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তা

শাহনাজ ইয়াসমিন: জীবনযাত্রায় চলমান...

বিস্তারিত
আগামীকাল দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আকাশে কোথাও...

বিস্তারিত
সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতর...

বিস্তারিত
ঢাকায় পৌঁছেছে চীনের উপহারের করোনা টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চীনের উপহার দেয়া ৫...

বিস্তারিত
পুলিশের ১১ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশের...

বিস্তারিত
হাওরে বোরো ধান কাটা শতভাগ শেষ : কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাওরে শতভাগ বোরো...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *