'রাষ্ট্রীয় রূপ নেয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা'

প্রকাশিত: ১২:৩৫, ১৭ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১২:৩৫, ১৭ এপ্রিল ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ এর আজ ৩৮৭ তম প্রতিবেদন।

১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি মাইল ফলক ইতিহাস রচনার দিন। এদিন যুদ্ধরত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে।

একাত্তরের এদিন সকাল এগারটায় মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগরে সরকারের শপথ অনুষ্ঠানটি হয়। সেখানে দেশি-বিদেশি ১২৭জন সাংবাদিক ও প্রায় দুই হাজারের বেশি স্থানীয় অধিবাসীদের উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোণাপত্র পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগের চীফ হুইপ অধ্যাপক মুহম্মদ ইউসুফ আলী। এই ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা রাষ্ট্রীয় রূপ নেয়।

শপথ গ্রহণ করা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে পরিবেশিত হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান- “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।”

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মন্ত্রিসভার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ভাষণও দেন তিনি। বলেন, পৃথিবীর মানচিত্রে আজ যে নতুন রাষ্ট্রের জন্মলগ্নের সূচনা হলো তা চিরদিন থাকবে। পৃথিবীর কোন শক্তি তা মুছে দিতে পারবে না।

পরে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বৈদ্যনাথ তলার নতুন নাম “মুজিবনগর” বলৈ ঘোষণা দেন। বলেন, “বাংলাদেশ আজ যুদ্ধে লিপ্ত। পাকিস্তানের উপনিবেশিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ। এটা আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের সংগ্রাম, আমাদের বাঁচা মরার সংগ্রাম, এ ছাড়া আমাদের আর কোন গত্যন্তর ছিল না।” (সূত্রঃ ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১; আনন্দবাজার পত্রিকা)

একাত্তরের এদিন, সাতচল্লিশ সালে ভারতের অসহযোগ আন্দোলন এবং জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা জয় প্রকাশ নারায়ণ পাটনাতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক সাহায্য ও সরকারকে স্বীকৃতি দেবার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে এই নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমর্থনে জনমত তৈরি করতে ৪৬ দিনের জন্য বিশ্ব সফরে বের হন।

HIB/BDB

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধের দাবি ওঠে

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
আখাউড়া চেকপোস্ট দখল করে নেয় পাকবাহিনী

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘পাকিস্তানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
আমেরিকার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান ইয়াহিয়া খান

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছিলো’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *