মন্ত্রিসভায় মুক্তিবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়

প্রকাশিত: ১০:৫১, ১৮ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১১:৪৬, ১৮ এপ্রিল ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তার শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ এর আজ ৩৮৮ তম প্রতিবেদন।

একাত্তর সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসমর্থণ গড়ে উঠতে থাকে। ১৯৭১ সালের ১৮ই এপ্রিল, লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটির ব্যানারে ট্র্যাফালগার স্কয়ার থেকে শুরু করে ডানকান স্ট্রিট, ম্যানচেস্টার প্লেস, ওয়াটার লু ব্রিজ স্ট্রিট, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, হোয়াইট হল, হর্সগার্ড হয়ে ডিনকেটারিয়া এমব্যাংকমেন্ট টেম্পল পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিল বের করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থণ আদায়ের চেষ্টা করে।

এদিন, ভারতের কলকাতায় পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশনের প্রধানসহ ৬৫জন বাঙালি কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিদেশী মিশন হিসেবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন মিশন প্রধান এম হোসেন আলী। বাংলাদেশ মিশন থেকে বঙ্গবন্ধুর একাত্তরের ৭ই মার্চের ভাষণ ও দেশাত্মবোধক বাংলা গান মাইক্রোফোনে প্রচারিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলকাতার বাংলাদেশ মিশনে স্থানান্তরিত করা হয়।

একাত্তর সালের এদিন, যুদ্ধরত বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় মুক্তিবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র ও যুবকর্মী সংগ্রহ করার জন্য ছাত্রলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমদ ও আব্দুর রাজ্জাকের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে এদিন, পাকিস্তানের এক বেতার ভাষণে হামলাকারী দখলদার দেশটির গভর্নর জেনারেল টিক্কা খান বলেন, “ ১লা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত সরকারী কর্মচারীগণ অফিসে যেতে পারেননি, কারণ তাদের ও পরিবার পরিজনের জীবন বিপন্ন হয়েছিল। এখন যেহেতু দু®কৃতিকারী ও ফ্যাসিস্টদের দমন করা হয়েছে এবং শান্তি বিরাজ করছে, তাদের সর্বান্তকরণে অকুন্ঠচিত্তে অকুতোভয়ে জাতি ও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করা উচিত। সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্যরা অনুপ্রবেশকারী দু®কৃতিকারী সমাজবিরোধী ও জাতিবিরোধী লোকদের ধ্বংস সাধনে দৃঢ়সংকল্প।”

একাত্তরের ১৮ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিফৌজ ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলে। দখলদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে চুয়াডাঙ্গার পতন ঘটে। বরিশালে পাকিস্তানী বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ করে। শত শত ভয়ার্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালী গৃহহারা হয়। ভারতের কলকাতার বেতার আকাশবানীর সংবাদে বলা হয়, সিলেটের সালুটিকায় প্রায় ৮০০ জন পাকিস্তানী সৈন্যকে আটক করে মুক্তিফৌজ।

 

HIB/BDB

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধের দাবি ওঠে

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
আখাউড়া চেকপোস্ট দখল করে নেয় পাকবাহিনী

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘পাকিস্তানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
আমেরিকার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান ইয়াহিয়া খান

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছিলো’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *