সিরাজগঞ্জে ৫’শ বাঙালিকে হত্যা করে পাকবাহিনী

প্রকাশিত: ১২:০৭, ০৪ মে ২০২১

আপডেট: ০১:৫১, ০৪ মে ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ। 

একাত্তর সালের মে মাসে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানী সামরিক সরকারের পক্ষে ইসলামী মৌলবাদী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতারা তৎপরতা বাড়াতে থাকে। 

১৯৭১ সালের ৪ঠা মে পাকিস্তান অবজারভারকে সাক্ষাতকার দেন পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী মুসলিম লীগ নেতা শাহ আজিজুর রহমান। বলেন, “প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান প্রবল উৎকন্ঠার সঙ্গে রাজনৈতিক দলসমূহকে অধিকতর স্বাধীনতা প্রদান পূর্বক দেশে পূর্ণ এবং বাধাবিহীন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল অধুনালুপ্ত আওয়ামী লীগ এই সুযোগের ভুল অর্থ করে বল প্রয়োগ আর শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জয়লাভ করে এবং নিজেদের খেয়ালখুশীমত দেশ শাসন করার দাবি করে। এভাবেই অহমীকা, অধৈর্য্য এবং ঔদ্ধত্যের মধ্যেই নিজেদের ভাসিয়ে দেয়। পাক সেনাবাহিনী পঁচিশে মার্চ রাতে যে নিধনযজ্ঞে অবতীর্ণ হয় তা সময়োচিত ও যথার্থ পদক্ষেপ ছিল। নব্য সাম্রাজ্যবাদী ভারতের দুরভিসন্ধি নস্যাত করার উদ্দেশ্যে দেশপ্রেমিক পাক সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য জনগণের প্রতি আহŸান জানাচ্ছি।” (সূত্রঃ ৫ মে, ১৯৭১; দৈনিক পাকিস্তান অবজার্ভার) 

একাত্তরের এদিনও বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন চলে। দখলদার বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ ডাকবাংলোয় ঘাঁটি স্থাপন করে এবং পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামের স্থানীয় সদস্যদের নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করে। তারা কোথাও নির্বিচারে,  কোথাও বেছে বেছে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের হত্যা করে। 

সিরাজগঞ্জে একাত্তরের এদিন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কমপক্ষে ৫’শ বাঙালিকে হত্যা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সিরাজগঞ্জের বাবতীতে ১৭০ জন সাধারণ নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করে। একইভাবে তামাই, রাজপুর, সাইদাবাদ, সিংলাবাড়ি, পাকবাহিনীর গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগে শত শত মানুষকে হত্যা করে হানাদার সেনারা। পিরোজপুরে ঢুকে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে যাকে আগে সামনে পেয়েছে তাকেই হত্যা করে পাকিস্তানী সোনারা। 

একাত্তরের এদিন, চট্টগ্রামের গরীবুল­াহশাহ মাজারের পাশে তাদের গণত্যায় নিহতদের  বধ্যভূমি তৈরি করে পাকিস্তানী সেনারা। 

HIB/MSI

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধের দাবি ওঠে

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
আখাউড়া চেকপোস্ট দখল করে নেয় পাকবাহিনী

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘পাকিস্তানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
আমেরিকার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান ইয়াহিয়া খান

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছিলো’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *