বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব করে পশ্চিমবঙ্গ

প্রকাশিত: ১২:২০, ০৮ মে ২০২১

আপডেট: ১২:৫৭, ০৮ মে ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ। 

একাত্তর সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভারতের যে কয়েকজন রাজনীতিবিদ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাঁদের অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জী এবং বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শ্রী জ্যোতি বসু। ১৯৭১ সালের ৮ই মে, অজয় মুখার্জী বিধানসভায় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেই প্রস্তাবে বলা হয়, “বিগত ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগের অসামান্য ও ঐতিহাসিক সাফল্যের মধ্যে প্রকাশিত জনগণের সুস্পষ্ট রায়কে পদদলিত করিয়া বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক শাসকচক্র যে নারকীয় গনহত্যাভিযান চালাইতেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধাসভা তাকে তীব্র ধিক্কার জানাইতেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের পূর্ণ জাতীয় স্বাধীনতার জন্য যে মরণপন সশস্ত্র সংগ্রাম চালাইতেছেন তার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন ও সেই সঙ্গে সংগ্রামী জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাইতেছে।” (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা)

একাত্তরের এদিন, বিধানসভার ভাষণে বিরোধীদলীয় নেতা জ্যোতি বসু দীর্ঘ বক্তব্যের মাঝে বলেন, “শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সাধারণভাবে অনেক আগে বলেছিলেন, তখন বাংলাদেশ সরকার হয়নি, আমি কাকে রেকগনাইজ করব, কাকে মেনে নেব। তারপর সরকার গঠিত হয়েছে, এখন আর সেকথা বললে চলবে না।তাঁরা আজ ওখানে গেরিলা কায়দায় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, তাদের লড়াইকে গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আর বিলম্ব কেন, এই প্রস্তাবে ১৫দিনের মধ্যে আমরা দিল­ীকে বলি যে, তোমরা বাংলাদেশকে মেনে নাও। ওদেরকে অস্ত্রশস্ত্র দিন, রেডিওতে গান করে ওদের সাহায্য করতে পারবেন না।” (সূত্রঃ আন্দবাজার পত্রিকা)

কলকাতার বেতার আকাশবাণীতে একাত্তরের এদিনের সংবাদে বলা হয়, “গত ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রনাঙ্গণে মুক্তিফৌজের পক্ষ থেকে কমান্ডো আক্রমণে প্রায় ১৫ পাকফৌজ খতম হয়েছে। এরমধ্যে ময়মনসিংহ কলমাকান্দা থানায় পাকবাহিনীকে আচমকা আক্রমণ করে কমান্ডোরা ৮জনকে হত্যা করে এবং ৩০টি রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। ইউএনআই সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, বাংলাদেশের খ্যাতনামা ফুটবল খেলোয়াড় ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দিন আহমদ মুক্তিফৌজে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, নতুন কায়দায় যুদ্ধ শুরু করে মুক্তিফৌজ গেরিলাবাহিনী সর্বত্র যোগাযোগের ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে পাকবাহিনীকে কোনঠাসা করে ফেলেছে।” (সূত্রঃ আকাশবাণী কলকাতা)

HIB/MSI

এই বিভাগের আরো খবর

নিদারুণ অবস্থায় দখলদার বাহিনী

কাজী বাপ্পা:  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর টানে আওয়ামী লীগে’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশি শরণার্থী নিয়ে আলোচনা

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
টিক্কা খানের আহবানে সাড়া দেয়নি বাঙালি  

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
শরনার্থীদের সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
'বঙ্গবন্ধুর ছিল প্রখর স্মৃতিশক্তি'

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
হানাদার বাহিনীর ওপর প্রভাব বাড়ে গেরিলাদের

কাজী বাপ্পা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার মানুষকে প্রভাবিত করতো ’

গোলাম মোর্শেদ : সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা বঙ্গবন্ধু’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘অর্থনীতির ওপর আঘাত হানে দখলদার বাহিনী’

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *