একজনের বিরুদ্ধে ১৩ জেলায় ৪৯টি মামলা!

প্রকাশিত: ০৭:৪৬, ০৫ জুন ২০২১

আপডেট: ১০:৫৭, ০৫ জুন ২০২১

ফররুখ বাবু: একের পর এক মামলা হচ্ছে রাজধানীর একরামুল আহসানের বিরুদ্ধে। এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে প্রায় অর্ধশত। এক এক করে নির্দোষও প্রমাণিত হচ্ছেন তিনি। মামলাবাজ চক্রের কবলে পড়ে ক্লান্ত ও নিঃস্ব একরামুল। জানালেন, তার সহায়সম্পদ কেড়ে নিতেই ১০ বছর ধরে চলছে এমন হয়রানি। আইনজীবীরা বললেন, মামলা দায়েরের সময় ভালোভাবে যাচাইবাছাই করা প্রয়োজন, যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হয়।

রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা এই একরামুল আহসান। ১০ বছরে তার নামে ১৩ জেলায় দায়ের হয়েছে ৪৯টি মামলা। এরই মধ্যে কারাভোগ করেছেন সাড়ে ৮ বছর। বর্তমানে ১১টি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিনে রয়েছেন একরামুল। আর ৩৮টি মামলা থেকে চূড়ান্ত অব্যহতি পেয়েছেন।

একরামুলের বিরুদ্ধে মামলায় এসিড নিক্ষেপ, নাশকতা, ধর্ষণ, মানবপাচার, চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও জালিয়াতির মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি জানালেন, রাজধানীর শান্তিবাগের পৈত্রিক বাড়ি, মিরপুরে নিজের বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেয়ার জন্য একটি চক্র মিথ্যা মামলা দিয়ে এভাবে হয়রানি করছে।

ভুক্তভোগী একরামুল আহসান জানালেন, ‘আমাদের যতগুলো আয়ের উৎস আছে সবগুলো ওরা (মামলাবাজ চক্র) হাতিয়ে নিচ্ছে। সবার থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কোনরকমে এখন মামলা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মামলার নথিতে দেখা যায় একরামুলের বিরুদ্ধে এক জেলায় যিনি মামলার বাদী, অন্য জেলায় হওয়া মামলায় তিনি সাক্ষী। এক নারী ২০১৬ সালে খুলনা জেলা আদালতে তার বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলা করেছিলেন। একই নারী পরের বছর একই অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতেও মামলা করেন।

একরামুল আহসান বলেন, ‘এই ভাবে ৫ থেকে ৬টি মানবপাচার মামলা খাইছি। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকে ৫-৬ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, আজ পর্যন্ত বাদী কোনদিন কোর্টে আসেনি। কিন্তু এখনো আমি ওই মামলায় ঝুলে আছি।’
একরামুলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি এসিড নিক্ষেপ মামলার রায়ের নথিতে বলা হয়েছে, যে সব নারীকে মামলার বাদী করা হয়েছে, তাদের কাউকে আদালতে হাজির করতে পারেনি বাদীপক্ষ। একটি মহল নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে মামলা করেছে। 

একইভাবে মামলা হয়েছে একরামুলের ছোট ভাই চিকিৎসক কামরুল আহসানের বিরুদ্ধেও। যিনি বর্তমানে পলাতক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলা আদালতে ২২টি মামলা দায়ের হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, উদ্দেশ্যমূলক এসব মামলা দায়েরের সাথে আদালতের কেউ কেউ জড়িত। 

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বললেন, ‘অনেক অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবী জড়িত আছে, অনেক ক্ষেত্রে পেশকার জড়িত আছে, অর্থের বিনিময়ে তারা এসব কাজ করে।’
 
হয়রানিমূলক এসব মামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পাশে রাষ্ট্রের দাঁড়ানো উচিত বলেও মনে করেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বললেন, ‘বিচার বিশ্লেষণ করে যদি মামলা দায়ের করা হয়, সেটি যদি মনিটর করা হয় এবং নেওয়ার সময় যাচাইবাছাই করা হয়, তাহলে প্রতারণার সুযোগ খুবই কম।’

আইনজীবীরা পরামর্শ দিলেন বাদীর পরিচয়পত্র যাচাই করার পর মামলা নথিভুক্ত করার।
 

FA/JP

এই বিভাগের আরো খবর

মিরপুরে বিধিনিষেধ অমান্য করায় ৭ মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনাভাইরাসের...

বিস্তারিত
সেজান জুস কারখানার মালিকের জামিন

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের...

বিস্তারিত
গাবতলী হাটে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা সংক্রমণের...

বিস্তারিত
পরিকল্পনামন্ত্রীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিকল্পনামন্ত্রী...

বিস্তারিত
যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর কারাবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক : যাবজ্জীবন সাজার...

বিস্তারিত
গাজীপুরে জোড়া খুন, গ্রেফতার ২

গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরের...

বিস্তারিত
৯ পুলিশ সুপারকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নয় পুলিশ সুপারকে...

বিস্তারিত
মানবপাচারে জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমধ্যসাগর হয়ে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *