মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে

প্রকাশিত: ১২:৩৩, ১০ জুন ২০২১

আপডেট: ০৫:৫০, ১০ জুন ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে ৫৬০ টি মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের ৫০ উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আজ উদ্বোধন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১০ই জুন) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে আধুনিক ও সুসজ্জিত এই মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই মসজিদগুলোতে ১৩টি বিশেষ সুবিধার মধ্যে মসজিদে হজ্জ যাত্রীদের প্রশিক্ষণসহ পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে।

সুবিধাগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, প্রতিবন্ধি মুসল্লিদের টয়লেটসহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রেরী, অটিজম কর্ণার, ইমাম ট্রেণিং সেন্টার, ইসলামিক গবেষণা ও দীনি দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কুরআন হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষায় ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা, মরদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা, ইমামের প্রশিক্ষণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থা। 

এই মডেল মসজিদ করতে ব্যয় হচ্ছে আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা। প্রতি জেলা, উপজেলা এবং উপকূল এলাকায় মসজিদগুলো তৈরি হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক মো. নজিবর রহমান জানান, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হবে এই মসজিদগুলো । পরিচালনা করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তিনি আরো জানান, বিশ্বে কোনো মুসলিম শাসকের একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ এই প্রথম।

জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিটি মসজিদ তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। উপজেলা পর্যায়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উপকূলীয় এলাকায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। শুরুতে এই প্রকল্পে সৌদি সরকারের অর্থায়নের কথা থাকলেও পরে তারা করেনি। এখন পুরো প্রকল্পটিই সরকারের অর্থে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন।

মসজিদগুলো ৪০ শতাংশ জমির ওপর জেলা পর্যায়ে চার তলা, উপজেলা পর্যায়ে  তিন তলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চার তলা ভবন। মসজিদে একই সঙ্গে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে কাজ করবে। নারীদের আলাদা নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের মসজিদে ৯০০ এবং জেলা পর্যায়ের মসজিদে এক হাজার ২০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রকল্পে নারী ও পুরুষের নামাজ আদায় ছাড়াও থাকছে ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, লাইব্রেরি, অটিজম কর্ণার, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার,ইসলামি গবেষণা ও দাওয়া কার্যক্রম, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, পর্যটকদের আবাসন, হজ যাত্রীদের নিবন্ধন প্রভৃতি।

নজিবর রহমান জানান, এই মসদিগুলোতে ইবাদতের পাশাপাশি আরো অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ড হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রচাারের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে। আর এই মসজিদগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিবন্ধিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা এবং তাদের মসজিদে প্রবেশের জন্য আলাদা  যায়গা থাকবে।

মসজিদগুলো  ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসও থাকবে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সাত হাজার জনবল নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। মডেল মসজিদগুলোতে নিযুক্তরা সরকারি বেতন পাবেন।  

প্রসঙ্গত, প্রকল্পটি চলতি জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরা দুই বছর সময় বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে।
 

MHS/PBC

এই বিভাগের আরো খবর

মাগুরায় যুবকের পা ও মাথা উদ্ধার

মাগুরা সংবাদদাতা: মাগুরায় এক যুবকের...

বিস্তারিত
জমি নিয়ে বিরোধে একজন খুন

ভৈরব সংবাদদাতা : জমি নিয়ে পূর্ব...

বিস্তারিত
‘মানুষ ও দেশের কল্যাণে পুলিশকে কাজ করতে হবে’

রাজশাহী সংবাদদাতা : বাংলাদেশ পুলিশের...

বিস্তারিত
নাটোরে রাইফেলের ৩৭৯টি গুলি উদ্ধার

নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরে ড্রেন খুঁড়তে...

বিস্তারিত
নারী পোশাক শ্রমিক ধর্ষণ, গ্রেফতার ২

গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরের...

বিস্তারিত
ভারতফেরত ৬ বাংলাদেশি আটক

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: অবৈধপথে ভারত...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *