ইরানে কিভাবে গোয়েন্দাগিরি করে ইসরাইল!

প্রকাশিত: ১২:৩৪, ১২ জুন ২০২১

আপডেট: ১২:৪১, ১২ জুন ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলি গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে ইরানে গোপন অভিযান চালিয়েছে তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন সেখানকার গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের সদ্য বিদায়ী প্রধান ইয়োসি কোহেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পরমাণু আর্কাইভে ঢুকে কিভাবে হাজার হাজার নথি বের করে নেওয়া হয়েছে, তার  বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস এবং একজন পরমাণুবিজ্ঞানী হত্যায় ইসরাইলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ইয়োসি কোহেন।

শুক্রবার (১১ই জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর ইউভডা ডকুমেন্টারি প্রোগ্রামে সাংবাদিক ইলান ডায়ানকে ওই সাক্ষাৎকার দেন কোহেন। ওই ডকুমেন্টারি ইসরায়েলি টেলিভিশনে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১০ই জুন) রাতে সম্প্রচার হয়। সাক্ষাৎকারে মোসাদের কার্যক্রমের গোপন অনেক বিষয় সামনে এসেছে। কোহেন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মোসাদকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর গত সপ্তাহে অবসরে যান।

২০১৮ সালে ইরানের ওয়্যারহাউসে হামলা চালিয়ে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত হাজার হাজার নথি চুরি করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহু এক সংবাদ সম্মেলনে চুরি করা ওই সব নথি দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেছেন, ‘ওই অপারেশন পরিকল্পনা করতে দুই বছর সময় লেগেছিল। এর সঙ্গে ২০ জন মোসাদ এজেন্ট মাঠপর্যায়ে যুক্ত ছিলেন। তবে এসব এজেন্টের কেউই ইসরাইলের নাগরিক ছিলেন না। তেল আবিবের কমান্ড সেন্টার থেকে গোয়েন্দাপ্রধান ওই অপারেশন দেখছিলেন। এজেন্টরা ওয়্যারহাউস ভেঙে ঢুকে পড়ে ৩০টি সিন্দুক ভাঙেন। ওই অপারেশনের সব এজেন্ট জীবিত ফিরে এসেছিলেন। তবে অপারেশনের পর কয়েকজন এজেন্টকে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকারে ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানী মহসেন ফাখরিজাদেকে নিয়েও কথা বলেন কোহেন। গত বছরের নভেম্বরে তেহরানের বাইরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দোষারোপ করে ইরান।

ওই বিজ্ঞানীর মৃত্যুর ঘটনায় ইসরাইলের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেননি কোহেন। তবে তিনি বলেন, ওই বিজ্ঞানী দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ, তাঁর বৈজ্ঞানিক প্রজ্ঞা মোসাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

কোহেন বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ইসলাইলের জনগণের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন, তবে তাঁকে বর্তমান কার্যক্রম থামাতে হবে। তবে কেউ যদি পেশা পরিবর্তন করে এবং আমাদের আর ক্ষতি না করেন, তবে তিনি বেঁচে যাবেন।’

ইসলাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০১৫ সালে কোহেনকে মোসাদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর ১৯৮২ সালে মোসাদে যোগ দিয়েছিলেন কোহেন। মোসাদে কাজ করার সময় কয়েক শ পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তিনি।
 

MHS/SAT

এই বিভাগের আরো খবর

ইকুয়েডরের দু'টি কারাগারে দাঙ্গা, নিহত ২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইকুয়েডরের দু'টি...

বিস্তারিত
আফগান সীমান্তের ৯০ শতাংশ তালেবানের দখলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে ৯০...

বিস্তারিত
দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংসতায় মৃত্যু বেড়ে ৩৩৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার...

বিস্তারিত
ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়া থেকে ইতালি...

বিস্তারিত
মাত্র ১১ মিনিটে মহাকাশ ঘুরে পৃথিবীতে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাত্র ১১ মিনিটে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *