পিরামিড নিয়ে যত বিশ্বাস  

প্রকাশিত: ০৬:৪১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৬:৪১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশরের গিজা শহরের রাস্তা ধরে এগোতে থাকলে অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ে গিজা পিরামিড। দূর থেকে খুব স্পষ্ট বোঝা যায় না পিরামিডগুলো। রোদ আর ধুলো মিলিয়ে দৃষ্টি ঝাপসা। মালভূমি বেয়ে তার সামনে পৌঁছেলে, নিজে থেকেই বিস্ময়সূচক শব্দ বেরিয়ে আসে মুখ থেকে! বাক্রুদ্ধ হয়ে যাওয়াও আশ্চর্য নয়। এক-একটা চৌকো পাথর ১০-১৫ টন, সে রকম হাজার হাজার পাথর দিয়ে উঠে গিয়েছে এক বিশাল চারকোনা সৌধ। মিশরে অনেকেই বিশ্বাস করেন, পিরামিড মানুষের তৈরি নয়, ভিনগ্রহের প্রাণীদের বানানো! এ রকমও প্রচলিত যে, কোনও জাদুমন্ত্র বলে পাথরগুলোর ওজন শূন্য করে ফেলে সেগুলো পরপর সাজিয়ে পিরামিড বানানো হয়েছিল! 

কিছু পাথর এসেছিল ওই এলাকার খনি থেকে, বাকিটা দক্ষিণ মিশরের আসোয়ান থেকে নীলনদ হয়ে। সেই সব পাথর কী ভাবে সাজানো হয়েছিল কিংবা অত উঁচুতে তোলা হয়েছিল, তা নিয়ে অবশ্য নিশ্চিত নন ইতিহাসবিদেরা। তবে অনেক রকম জ্যামিতিক হিসেবের কথাই বলা হয়। 

কেন তৈরি হয়েছিল পিরামিড? প্রাচীন মিশরীয়রা জন্মান্তরে বিশ্বাস করত। সেই সভ্যতার চতুর্থ রাজবংশের আমলে তাই গিজা মালভূমির উপরে তৈরি হয় এই আশ্চর্য সমাধিক্ষেত্র। সেখানেই আছে তিন ফারাও খুফু, খাফরে আর মেনকাউরে-র বিরাট পিরামিডগুলো। আছে স্ফিংস, আরও অনেক সমাধি এবং শিল্প-শ্রমিকদের গ্রাম। প্রাচীন কালের পৃথিবীর সাত আশ্চর্যের মধ্যে পিরামিড অন্যতম। খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে একদল লোক ভাবল, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সৌধ বানাবে, যা উচ্চতায় ৪৮১ ফুট আর চওড়ায় ৭৫৬ ফুট। 

আর তা বানিয়েও ফেলল, এটা বিশ্বাস করতে সত্যি একটু অস্বস্তি হয়। তারা তো যেমন-তেমন করে বানায়নি। পিরামিডগুলোর উপরে ছিল আলাবাস্তার চুনাপাথরের আবরণ। তার ফলে অত বড় ইমারতগুলো সব সময়ে চকচক করত। এখন আমরা যা দেখে এত অবাক হই, তা কিন্তু কেবল ভিতরের কঙ্কাল। উচ্চতাও সেই সময়ের চেয়ে ২৬ মিটার কম। আসলে মৃত মানুষকে জীবন্তের মতো করে রেখে দেওয়ার জন্য ৭০ দিন ধরে এক কঠিন চিকিৎসাপ্রণালী মমিফিকেশন চালানোও তো প্রায় অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। সেই মমিকে রাখার ঘর, পিরামিড যে আরও তাজ্জব হবে, তা আর আশ্চর্যের কি আছে। 

ফারাও খুফুর পিরামিডটাই আকারে সবচেয়ে বড়, তার নাম গ্রেট পিরামিড। পাথরের ধাপে ধাপে এর গা বেয়ে কিছুটা ওঠা যায়। ভিতরে নামার ব্যবস্থাও আছে। তবে পিরামিডে নামার উত্তেজনাটুকু ছাড়া বাকিটা বেশ কষ্টকর। ভিতরেও কিচ্ছু নেই। ফারাওদের আমলে পিরামিডের ভিতরে যে মমি এবং ধনরতœ থাকত, তার বেশির ভাগই লুট হয়ে গিয়েছে, বাদবাকিটা এখন মিউজজিয়ামে।

গিজার দক্ষিণে ফারাওদের রাজধানী ছিল মেম্ফিস। গিজা থেকে দাহশুর পর্যন্ত যতগুলো পিরামিড চত্বর আছে, পুরোটা মিলিয়েই ইউনেসকো ওয়র্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই সমস্ত সমাধিক্ষেত্র মেম্ফিস শহরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল। এই এলাকায় সবুজ কিছু বেশি। অধুনা গঞ্জ শহর, একটা খালের ধার ধরে অনেকটা রাস্তা যেতে হয়। 

সাকারায় আছে ফারাও জোসেরের বিখ্যাত স্টেপ পিরামিড। এটাও মরুভূমির মধ্যে, শহর ছাড়িয়ে একটু উঁচুতে। সাকারার কিছু সমাধির ভিতরে অবশ্য দেওয়াল জুড়ে ছবি আঁকা এবং হায়রোগ্লিফিক্সে লেখা।

FA/PBC

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বের দামি কফি

অনলাইন ডেস্ক: শরীরকে চাঙা করার জন্য...

বিস্তারিত
ঘরে তৈরি করুন মজাদার চিকেন পাই

অনলাইন ডেস্ক: বর্তমানে সবাই কম-বেশি...

বিস্তারিত
জবা ফুলের অবাক করা গুণ

অনলাইন ডেস্ক: সাধারণত শোভাবর্ধনকারী...

বিস্তারিত
সুস্বাদু দই-ইলিশের রেসিপি

ডেস্ক রিপোর্ট: ইলিশ ভাজা, ইলিশের...

বিস্তারিত
ত্বকের কালচে দাগ দূর করার উপায়

অনলাইন ডেস্ক: চেহারার যত্ন নিলেও...

বিস্তারিত
ঘরেই তৈরি করুন এয়ার ফ্রেশনার

অনলাইন ডেস্ক: ঘরের সতেজতা ধরে রাখে...

বিস্তারিত
চুলের যত্নে সেরা নারকেল তেল

ডেস্ক প্রতিবেদন: ত্বক ও চুলের যত্নে...

বিস্তারিত
নারকেলের সন্দেশের রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক: নারকেল দিয়ে বিভিন্ন...

বিস্তারিত
১২ বছরে দৈনিক ৩০ মিনিট ঘুম !!

ফারুক হোসাইন: জাপানের দাইসুকি হরি...

বিস্তারিত
হজমের সমস্যার সমাধান  

ফারুক হোসাইন: আমাদের অনেকেরই হজমের...

বিস্তারিত
চিংড়ি পোলাও তৈরি করবেন যেভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট: চিংড়ি পোলাও তৈরি করতে...

বিস্তারিত
চিকেন মিটবল বানাবেন যেভাবে- 

অনলাইন ডেস্ক: কিছু খাবার আছে যেগুলো...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *