আইনি জটিলতায় সাড়ে ৪শ' কোটি টাকার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি

প্রকাশিত: ৩০-১০-২০২১ ১৪:৪০

আপডেট: ২৫-০১-২০২২ ০৯:৫৮

তাসলিমুল আলম: গত আড়াই বছরে দুদকের মামলার রায়ে সাড়ে চারশ' কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে আদালত। এসব সম্পত্তি সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা করতে পারছে না দুদক। একই সময়ে তদন্তাধীন মামলায় স্থাবর-অস্থাবর মিলে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করেছে তারা। তবে, কাগজে-কলমে যে পরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার বড় অংশই দুদকের নিয়ন্ত্রণে নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী আবজাল হোসেন দম্পত্তির উত্তরা এলাকার এই বাড়িটি ২০১৯ সালে জব্দ করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি বনে যাওয়া আবজালের দুইটি বাড়িসহ একটি বাণিজ্যিক জায়গা জব্দ করে সংস্থাটি।

একইভাবে ক্যাসিনোকান্ডে তদন্তাধীন মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, জিকে শামীমসহ ২৪ আসামির প্রায় ৫৮২ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করে দুদক।

সংস্থাটি বলছে, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মামলার তদন্তাধীন অবস্থায় চারশো একর জমি, ১৬৮টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট এবং ৫৩টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করে তারা। এসময়ে স্থাবর অস্থাবর সবমিলিয়ে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি যুক্ত হয় দুদকের জব্দের তালিকায়।

তদন্তাধীন মামলায় ক্রোক করা স্থাবর সম্পদ
২০১৯ সাল- ১১৫,৬৬,৩০,২১১ টাকা
২০২০ সাল- ১৮০,১১,৯১৭৪৬ টাকা
২০২১ সাল (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)- ৩২৪,৫৯,৮৬,৫৯২ টাকা

তদন্তাধীন মামলায় অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদ
২০১৯ সাল- ১১৮,৫৯,৬৫,৮৭৬ টাকা
২০২০ সাল- ১৫২,০৪,৩৬,৪৯৬
২০২১ সাল (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)- ১১৬৭,০৭,১৫,৬০৪ টাকা

জিএফএক্স-২
দুদকের মামলায় রায়ে বাজেয়াপ্ত সম্পদ
২০১৯ সাল- ৪৩৬,৮৮,৯৫,৩৭৪
২০২০ সাল- ৩,০৩,৬৯,০০০
২০২১ (আগস্ট পর্যন্ত) সাল- ২,৩৬,৯৫,০৩২

গেল আড়াই বছরে দুদকের মামলার রায়ে দুর্নীতিবাজদের প্রায় সাড়ে চারশো কেটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে বিচারিক আদালত। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মালিক দুদক, যা রাষ্ট্রের কোষাগারে ফিরিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান দুদক কমিশনার।

তবে রায়ের বিরুদ্ধে যখনই দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করেনÑ তখন ওই সম্পত্তির বাজেয়াপ্তির আদেশও স্থগিত হয়ে যায়। এতে সম্পত্তির ওপর কেউই মালিকানা দাবি করতে পারছে না। এর ফলে নষ্ট বা বেদখল হয়ে যাচ্ছে বাজেয়াপ্ত সম্পদ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র কাগজপত্রেই দণ্ডিত দুর্নীতিবাজের অর্থ-সম্পদের ওপর মালিকানা পাচ্ছে রাষ্ট্র।

বছর তিনেক আগে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠন করা হলেও, তার কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি বলেও অভিযোগ করেন দুদকের সাবেক এই কর্মকর্তা।

/admiin