২০ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি সিভিল এভিয়েশন

প্রকাশিত: ০২:৩১, ২০ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৩:৫৩, ২০ নভেম্বর ২০২১

রীতা নাহার: সিভিল এভিয়েশনের বড় বড় উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ সবই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালী ২০টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একটি চক্র। অথচ সিভিল এভিয়েশনের লাইসেন্স পাওয়া ঠিকাদারের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭। ঠিকাদাররা বলছে, কাজের দরপত্রের শর্তগুলো এমন থাকে যে, তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশই নিতে পারেনা। তবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিধি অনুযায়ী এক প্রতিষ্ঠানের একাধিক কাজ পেতে বাধা নেই। 

গত কয়েক বছর ধরেই দেশের সবক’টি বিমানবন্দরে বিভিন্ন পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানির পাশাপাশি কাজ করছে দেশিয় মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। 

সিভিল এভিয়েশনে তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। কিন্তু বছরের পর বছর ঘুরে ফিরে কাজ পায় কয়েকটা প্রতিষ্ঠান। সিভিল এভিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করে মূলত তিনটি প্রতিষ্ঠান- মীর আখতার, আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও এনডিই। ২০কোটি থেকে ১০০ কোটির উন্নয়ন কাজ করছে- মনির কন্সট্রাকশন, ন্যাশনাল ট্রেডার্স’সহ ৭/৮টা প্রতিষ্ঠান, ১০কোটি টাকা থেকে ২০কোটি টাকার কাজ করে হাইড্রোটেক, দুলাল এন্ড সন্স, লোপা এন্টারপ্রাইজ, তানভীর ট্রেডার্স’সহ অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে যারা আছে কম বেশি সবাই ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার বিভিন্ন কাজ করে।

বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেউ কেউ বছরে সর্বোচ্চ ১২টি কার্যাদেশও পেয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ইলেক্ট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট- ইজিপি’র নিয়ম অনুযায়ী সিভিল এভিয়েশনের লাইসেন্স ছাড়াই যে কোন প্রতিষ্ঠান তাদের দরপত্রে অংশ নিতে পারে।  কিন্তু নানা শর্ত পূরণের সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের কাজের দরপত্রে এমনভাবে শর্ত বেধে দেয়া হয় যাতে কাংখিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোনও প্রতিষ্ঠান টিকতে না পারে। পরিকল্পনা কমিশনের তদন্তে এই অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা প্রমাণিত হলে তা বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। 

দরপত্রে উদ্দেশ্যমূলক শর্ত রাখা, কাজ পেতে কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়া, সিন্ডিকেট করে কাজ নেয়াসহ সিভিল এভিয়েশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। 

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশেষায়িত এ খাতের কাজের জন্য কিছু বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন যা সব কোম্পানির নেই। সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতির দুর্নাম ঘুচাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...