সেই ডিসি সুলতানাকে শাস্তি থেকে রেহাই

প্রকাশিত: ০২:৪০, ২৭ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০২:৪৮, ২৭ নভেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুলতানা পারভীনের বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার যে ‘লঘুদণ্ড’সাড়ে তিন মাস আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তা বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনকে। মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল।

ওএসডি হয়ে থাকা উপসচিব পদমর্যাদার সুলতানা পারভীনের শাস্তির আদেশ এসেছিল গত ১০ই অগাস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে। সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে গত ২৩শে নভেম্বর আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সেখানেই সুলতানা পারভীনের শাস্তি বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। শাস্তি থেকে রেহাই দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

জ্যেষ্ঠ সচিব কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “যেহেতু মোছা. সুলতানা পারভীন তার উপর অরোপিত উল্লিখিত লঘুদণ্ডাদেশ মুকুফের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির সমীপে আপিল আবেদন পেশ করলে মাহামান্য রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে মোছা. সুলাতানা পারভীনের আপিল আবেদন বিবেচনা করে পূর্বে প্রদত্ত দুই বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’ নামীয় দণ্ডদেশ বাতিল করে তাকে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।  

“সেহেতু মোছা. সুলতানা পারভীন, প্রাক্তন জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম, বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপসচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়- এর বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় দুই বছররের জন্য বেতন বৃদ্ধি ‘স্থাগিত রাখা’ নমনীয় লঘুদণ্ড প্রদান করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১০ অগাস্টের প্রজ্ঞাপনটি বাতিলপূর্বক তাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হল।” 
 
বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে গত বছর ১৩ই মার্চ গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ওই অভিযান পরিচালনা করেন। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন এবং সহকারী কমিশনার এস এম রাহাতুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রামের ওই সময়কার ডিসি সুলতানা পারভীনের নির্দেশেই আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয় বলে আরিফুলের পরিবারের অভিযোগ করেন।

বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা সুলতানা কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর নিজের নামানুসারে ওই পুকুরের নাম ‘সুলতানা সরোবর’ রাখতে চেয়েছিলেন জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন রিগান। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের ১০ মাস পর জেলা প্রশাসন আরিফুলের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে সাজা দেয়।

ওই ঘটনা তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়, বিষয়টি হাই কোর্টেও গড়ায়। পরে রিগানকে জামিন দেয় কুড়িগ্রামের আদালত। মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রিগান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাত ও চোখ বাঁধা’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে ‘বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন’করা হয়। চোখ বেঁধে তার কাছ থেকে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম থেকে সরিয়ে দেয় সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সুলতানা পারভীনকে গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। এরপর চলতি বছরের ৮ জুন তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শাও নোটিস দেয় মন্ত্রণালয়।

সুলতানা পারভীন ২২ জুন লিখিতভাবে তার জবাব দেন। সব বিচার-বিশ্লেষণ শেষে ১০ অগাস্ট তাকে বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার ‘লঘুদণ্ড’ দেওয়া হয়।

সেই লঘুদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন সুলতানা পারভীন। রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করে অভিযোগের দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দিলেন।

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...