রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ডে বেশি ঝুঁকিতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ২০-০১-২০২২ ১৪:০৮

আপডেট: ২৫-০১-২০২২ ০৯:৫৮

রীতা নাহার: গত এক বছরে রাজধানীতে ছোট বড় অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে ২২ হাজারেরও বেশি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩শ কোটি টাকারও বেশি। রাজধানীর ৪২ শতাংশ শপিংমল অগ্নিদুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতাল ক্লিনিকের ৪৯ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। আর সবচে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। এ তথ্য ফায়ার সার্ভিস অধিপ্তরের। তবে সড়ক নৌ বা আকাশ পথের অগ্নি দুর্ঘটনা ও নির্বাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলাদা কোন খতিয়ান বা নজরদারি নেই।

প্রতি বছর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেই হৈচৈ পড়ে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাপনার আদ্যেপান্ত নিয়ে। ঘটনা শেষে কিছুদিন পর আবার সব স্বাভাবিক।

২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিসের সবশেষ জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর জনবহুল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অগ্নিদুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ১০৩৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ শতাংশেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১০ শতাংশ। ৫৭ শতাংশেরও বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৫০ শতাংশ অতিঝুঁকিপূর্ণ। ৪২ শতাংশেরও বেশি শপিংমল অতিঝুঁকিপূর্ণ আর ৫৩ শতাংশেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

একই চিত্র ব্যাংক, আবাসিক হোটেল ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। কেবল ২০২১ সালে ২২হাজারেরও বেশি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন।

ভবনভিত্তিক এমন জরিপ হলেও পরিবহন খাতের অগ্নি দুর্ঘটনা বা নির্বাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনও গবেষণা নেই। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আকাশ পথে বা সমুদ্রগামী যানের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও মহড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের ক্ষেত্রে এখনও তেমন ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। সম্প্রতি চাঁদপুরের দুর্ঘটনাও তার একটা নজির বলে মনে করেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর আবু জাফর মোঃ জালাল উদ্দিন।

যাত্রী পরিবহনকারী নৌযানগুলো অগ্নিনির্বাপনের জন্য যথেষ্ট উপযোগী নয়। এগুলোর আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তারা।

তবে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নিনির্বাপনের নিয়মিত মহড়ার কোনও বিকল্প নেই বলে জানান তারা।

/admiin