ঢাকার বাতাস দূষিত করছে ভারত ও মিয়ানমারের বস্তুকণা 

প্রকাশিত: ২৯-০১-২০২২ ১৩:৫২

আপডেট: ১৪-০২-২০২২ ১০:১৬

ফাহিম মোনায়েম: ভারত ও মিয়ানমার থেকে ঢাকার আকাশে আসছে দূষিত বায়ু। সীমান্ত পেরিয়ে আসা বস্তুকণা ঢাকার বায়ুকে আরো দূষিত করছে। গবেষকরা বলছেন, এই বস্তুকণার মধ্যে রয়েছে অ্যামোনিয়া, সীসা, নাইট্রিক অক্সাইডসহ ৬ ধরনের পদার্থ। আছে গ্যাসের মতো অতি সূক্ষ্ম পদার্থও। তবে বায়ু দূষণের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎসের পদার্থই বেশি দায়ি। 

ঢাকার বায়ু দূষণের খবর নতুন নয়। মাঝে মধ্যে দূষণের বিশ্ব তালিকায় ঢাকা শীর্ষস্থানে উঠে যায়। গবেষকরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস ধুলাবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের সময় তৈরি নানান বস্তুকণা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে- ভারত ও মিয়ানমারের আকাশ থেকে ভেসে আসা দূষিত বস্তুকণা ও পদার্থও ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করছে। ঢাকার বায়ু দূষণের জন্য অভ্যন্তরীণ বস্তুকণা ৭০ ভাগ দায়ী। আর বাকি ৩০ ভাগ আসছে সীমান্তের ওপার থেকে। 

বিষাক্ত অ্যামোনিয়া, নাইট্রিক অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, সীসা, কার্বন, ওজোন গ্যাসের মতো অতি সূক্ষ্ম পদার্থ বাতাসকে বিষাক্ত করছে। গত এক মাস ধরে ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর বলে জানান এই গবেষক। 

আন্তর্জাতিক বায়ু মান সূচক অনুযায়ী বাতাসে দূষণের মাত্রা ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত ধরা হয় মধ্যম মানের বায়ু। ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত বিপজ্জনক এবং সূচক ১৫১ থেকে ২০০ হলে সেই বায়ু অস্বাস্থ্যকর হয়। এরপর সূচক ২০১ থেকে ৫০০ উঠলে সেই বাতাস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ঢাকার বাতাসে এই মাত্রা গত এক মাস ধরে ১৫১ থেকে ৫০০ কাছাকাছি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় উৎস থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ বন্ধ করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভাবে উদ্যোগ নিতে বলছেন গবেষকরা। 

আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচক 
               
সূচক                  বায়ূ মান
৫১ -১০০            মধ্যম
১০১ -১৫০        বিপজ্জনক
১৫১ -২০০         অস্বাস্থ্যকর
২০১ - ৫০০         অতি অস্বাস্থ্যকর
 

/admiin