চিকিৎসার জন্য বিদেশনির্ভরতা বেড়েছে

প্রকাশিত: ১৮-০৫-২০২২ ১৪:১৭

আপডেট: ১৮-০৫-২০২২ ১৫:২৭

লাবনী গুহ: দেশের রোগিদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু করোনার পর এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন দেশের মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল চিকিৎসা নয়, এটা মেডিকেল ট্যূরিজম। যা বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। এছাড়া, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি রয়েছে মানুষের অনাস্থা। এই সংকট কাটাতে বাণিজ্যের পরিবর্তে সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।

নারায়ণগঞ্জের লক্ষণ চন্দ্র দে। ভুগছেন খাদ্যনালীর ক্যান্সারে। দেশে বেশ কয়েক জায়গায় চিকিৎসা করিয়ে আশানুরুপ ফল না পেয়ে সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করিয়ে ফিরেছেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আরিফ শাওন। কোমর ও হাঁটুর ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছেন দীর্ঘদিন। দেশে সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে যাবতীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে না পেরে ভারতে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আর এই ছবিগুলো ঈদুল ফিতরের আগে ভারতীয় ভিসা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন। করোনার দুই বছরে অনেকেই ভারতে যেতে পারেননি। ফলে ভ্রমন ভিসায় চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে এই সংখ্যাটি কতো তা জানায়নি ভারতীয় হাইকমিশন।

দেশে চিকিৎসাসেবায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতালসহ বেসরকারি নানা হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। আবার, করোনার দুই-বছরও দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। তবুও কেন, শুধুমাত্র চিকিৎসা নিতে সামর্থ্যঅনুযায়ী দেশের মানুষ বাইরে যায়। এমন প্রশ্নের উত্তরে এই জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল জানালেন, আস্থার সংকটের কথা। তিনি বলেন, দেশে রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতেও সীমাবদ্ধতা আছে।

সংকট উত্তরণে বাণিজ্যের চেয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় করা এবং চিকিৎসা ব্যায়ের লাগাম টেনে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

LGR/sharif