পানিতে ভাসছে সিলেট ও সুনামগঞ্জবাসী

প্রকাশিত: ১৮-০৬-২০২২ ১০:০৩

আপডেট: ১৮-০৬-২০২২ ১৯:৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট ও সুনামগঞ্জে একরাতের মধ্যে বানের পানি আরও কয়েক ফুট বেড়েছে। বাড়িঘর রাস্তাঘাট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে আছে। সুনামগঞ্জের পর সিলেটেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ৩৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি। অবর্ণনীয় দুভোগে পড়েছেন সিলেট বিভাগের মানুষ। এরইমধ্যে পানি বেড়েছে নেত্রকোণা ও শেরপুর অঞ্চলেও। রেললাইন ডুবে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে নেত্রকোণায়। এছাড়া দেশের উত্তরের আরও ১৪ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল। সিলেট বিভাগের ৮০ ভাগের বেশি এলাকা এখন পানির নিচে। গ্রাম কিংবা শহর সব জায়গায় থই থই পানি। রাতভর অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিলেট বিভাগের প্রায় সব এলাকায় বন্যার পানি বেড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়ক ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ও দুর্ঘটনা এড়াতে সিলেট নগরীর কিছু কিছু উঁচু অংশ ছাড়া পুরো বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাই সিলেট বিভাগ এখন সারাদেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। বিমানবন্দরের পর সিলেট রেল ষ্টেশনও বন্ধ হয়ে গেছে।

হু হু করে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় সিলেট নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় হাটু থেকে কোমর-সমান পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে সিলেট বিভাগের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা পানির নিচে। আগামী দুই দিন বন্যার পানি আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

No description available.

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই রেলপথের ইসলামপুর এলাকায় একটি বক্স সেতু ভেঙে গেছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বেড়ে গেছে। কুড়িগ্রামে ১৬টি নদনদীতে পানি বেড়ে জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার মানুষই এখন পানি বন্দি। 

বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে উত্তরাঞ্চলের আরো ১৪টি জেলায় বন্যার পানি ঢুকতে পারে। এছাড়া পদ্মার মূল নদী গঙ্গার উজানে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় শরীয়তপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর ও ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা হতে পারে।

এদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেটের রেললাইন। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। তবে জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা থেকে সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার (১৮ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন আপাতত বন্ধ থাকবে। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে এখন সরাসরি সিলেট স্টেশনে কোনো ট্রেন আসবে না। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেললাইন স্টেশন ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া স্টেশন থেকে চলাচল করবে। 

এর আগে সকালে সিলেট স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ‘কালনী এক্সপ্রেস’ এবং ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ছেড়ে গেছে। এরপর আর কোনো ট্রেন আসেনি এবং ছেড়েও যায়নি। এর আগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী কাজ করছে। পানি নামানো গেলেই সরবরাহ আবার চালু করা হবে।

AR/ramen