ইভিএম ব্যবহার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত: ২৮-০৬-২০২২ ১৯:৩৬

আপডেট: ২৮-০৬-২০২২ ১৯:৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু দল নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার চাইলেও, কিছু দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে।

ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিমত জানতে আজ (মঙ্গলবার) বিকাল তিনটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ১০টি দল বৈঠকে অংশ নেয়। এসময় দলগুলো ইভিএমে ভোট নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল সালেহ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে রায় দেন। তিনি বলেন, কেউ চেষ্টা করলেও সকাল ৮টার আগে কেউ ওপেন করতে পারবে না এবং বিকেল ৪টার পর কেউ ভোট দিতে পারবে না। প্রিসাইডিং অফিসার শুধু ওপেন করতে পারবে, ভোট দিতে পারবে শুধু ভোটাররা। 

মেজর জেনারেল সালেহ আরও বলেন, ইভিএমে কারচুপি করার সুযোগ নেই, ভোটাররা কাকে ভোট দিয়েছে সেটা দেখতে পারবে। ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ সম্ভব। বিদ্যুৎ ছাড়াও এই মেশিন ৬ ঘন্টা ব্যাককাপ দিতে পারবে। হ্যাক করা সম্ভব নয়।

ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। তিনি বলেন, জনগণ মনে করে ইভিএম ভোট চুরি নির্ভরযোগ্য মেশিন। ইভিএমে ভোট দিতে জনগণের আগ্রহ নেই। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ ঠিক হবে না। ইভিএম বাদ দিয়ে স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সবার আস্থা অর্জনের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নান ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে হলেও তিনি নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পেশিশক্তি প্রভাব মুক্ত করতে হবে। স্বচ্ছ এবং কারচুপি মুক্ত করতে নির্বাচন করা কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ। যেভাবেই হোক নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। এতোগুলা আসনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার নির্বাচন কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।

ইভিএম সম্পর্কে সবার কাছে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় সব আসনে না করে আগামী নির্বাচনে ১৫০টি আসনে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তরিকত ফেডারেশন।

গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরাইয়া বেগম ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। তিনি মনে করেন আধুনিক ভোটিং মেশিন হলেও এটি একটি ত্রুটিযুক্ত ব্যবস্থা। এটা দিয়ে নির্বাচনে জালিয়াতি করা সম্ভব।  জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে ইভিএমে প্রত্যাহার করে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

 

rocky/habib