করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনাগুলো উপেক্ষিত

প্রকাশিত: ২৯-০৬-২০২২ ০৯:৫২

আপডেট: ২৯-০৬-২০২২ ২০:২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারো দেশে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির কারণে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকসহ সরকার ছয়দফা নির্দেশনা দিলেও তা প্রায় সবখানে উপেক্ষিত। রাজধানীতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে চরম অনীহা রয়েছে মানুষের মধ্যে। অধিকাংশ মানুষই মাস্কছাড়া বাইরে বেরিয়েছে। মানছেনা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। এতে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এসব মানুষের ভাবলেশহীন চলাফেরা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারো আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। কারো মুখেই মাস্ক নেই, নেই সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই। হাট-বাজার, মার্কেট, দোকান, হাসপাতাল, অফিস কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিন দুই হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে; যার বেশিরভাগই রাজধানীর। শনাক্তের হার বেঁড়ে দাড়িয়েছে ১৫ শতাংশ। বেড়েছে মৃত্যুও।

এমন পরিস্থিতিতে আবারো ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস নীতি’ গ্রহণ করেছে সরকার। সবক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, জ্বর-সর্দি, কাশি হলে কোভিড টেস্ট করা, ধর্মীয় উপসনালয়ে মাস্ক পরাসহ ছয়দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে।

তবে এসব বিধিনিষেধ মানায় সাধারণ মানুষের যেমন উদাসিনতা রয়েছে, তেমনি বিধিনিষেধ মানাতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন তদারকিও নেই রাজধানীতে। করোনা সংক্রমণের এই ঊর্র্ধ্বগতি সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, তা আবারো ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা রয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

এর আগে দেশে করোনার সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়ায় মসজিদ-শপিংমলসহ সবক্ষেত্রে মাস্ক পরা আবারও বাধ্যতামূলক করে সরকার। মঙ্গলবার (২৮ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে সারাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তের হার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও জনগণের মধ্যে মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে যথেষ্ট শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে মর্মে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা হচ্ছে। ১৪ জুন কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় নেওয়া সুপারিশ প্রতিপালনের জন্য এবং কোভিড প্রতিরোধকল্পে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হলো-

১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে সব প্রকার গণমাধ্যমে অনুরোধ জানাতে হবে।

২. সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে।

৩. ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানসমূহে (যেমন-মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৪. জ্বর, সর্দি, কাশি বা কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড টেস্ট করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৫.দোকান, শপিংমল, বাজার, ক্রেতা-বিক্রেতা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

৬. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজে খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন।

উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩ জনের ‍মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৪৫ জনে।

MHS/sharif