পদ ছাড়বেন না বরিস জনসন

প্রকাশিত: ০৭-০৭-২০২২ ০১:৩৬

আপডেট: ০৭-০৭-২০২২ ০১:৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কিন্তু এত বিদ্রোহের মুখেও জনসন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

বিবিসি জানায়, স্থঅনীয় সময় মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের পর তাদের দেখাদেখি পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অন্তত ৩৮ জন সদস্য।

বুধবার সকাল পর্যন্ত পদত্যাগের এই জোয়ারে সামিল হন অনেক জুনিয়র মন্ত্রী এবং জনসনের সহযোগীরাও। জনসনের অনুগত এমপি যারা ছিলেন তাদের মধ্যেও এখন তার সমর্থন কমে আসছে।

এ পরিস্থিতিতে বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা কির স্টারমারসহ হাউজ অব কমন্সের অন্যান্যদের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জনসন।

সরকারে শীর্ষ পর্যায়ে পদত্যাগের যে ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তাতে জনসন এখন এই শূন্য পদগুলো পূরণ করবেন কিনা- সে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

লেবার নেতা কির স্টারমার মন্ত্রীদের পদত্যাগকে ‘ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে ইঁদুরের পলায়নের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। আর যারা এখনও পদত্যাগ করেননি তাদেরকে মাথা ঝোঁকানো ‘নেড়ি কুকুর’ তকমা দিয়েছেন তিনি।

হাউজ অব কমন্সে এমপি’দের সামনে সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্বেও প্রধানমন্ত্রী জনসন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আরও বেশি বিস্ফোরক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

জনসন তার নিজের ভুলের জন্য অন্য মানুষদেরকে দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ করেছেন কনজারভেটিভ দলের এক এমপি। জনসনকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন আরও অনেকে।

স্কটিশ ন্যাশনল পার্টি (এসএনপি) নেতা আয়ান ব্যাকফোর্ড প্রশ্ন তুলে বলেছেন, জনসন কলম হাতে নেওয়া এবং পদত্যাগপত্র লেখার আগে আর কত মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে?

উত্তরে জনসন দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, সময় যখন কঠিন যায় তখন সরকারের পেছন দিকে হাঁটা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ইউরোপে ৮০ বছরের মধ্যে বড় একটি যুদ্ধের (ইউক্রেইন যুদ্ধ) এই সময়ে দেশ যখন অর্থনৈতিক দিক থেকে চাপের মুখে আছে, ঠিক সেই সময়ে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে এমনটিই মানুষ আশা করবে।

সরকার এখন অর্থনীতির ধাক্কা থেকে পরিবারগুলোকে বাঁচাতে সহায়তা করছে এবং এ কাজকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান জনসন। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিজ দল থেকে যতই বিদ্রোহ হোক- পদত্যাগ করবেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে জনসন বলেছেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল জনরায় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। সেই ম্যান্ডেটের জোরেই শাসন জারি রাখবেন তিনি।

AR/habib