দাম বাড়ায় পাথর আমদানি কমেছে

প্রকাশিত: ১০-০৮-২০২২ ১৬:৫০

আপডেট: ১০-০৮-২০২২ ১৬:৫০

হিলি সংবাদদাতা: ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাথরের দাম বাড়ানোয় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা ও বিভিন্ন প্রকল্পে পাথর সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা।

স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বোল্ডার পাথর ও চিপস পাথর আমদানি অব্যাহত আছে। তবে দাম বাড়তি। ৫ থেকে ৮ ও ৩ থেকে ৪ সাইজের প্রতি টন পাথর চার হাজার ৬৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। হাফ ইঞ্চি সাইজের পাথরের টন তিন হাজার ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এসব পাথর এক সপ্তাহ আগে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিল। দাম বাড়ায় পাথর বেচাকেনা কমেছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।

বন্দরে পাথর কিনতে আসা কয়েক জন বলেন, রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্য গত সপ্তাহে চার হাজার ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা টন কিনেছি। এখন চার হাজার ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। দুদিন আগেও একই দাম ছিল। দুদিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে খরচও বেড়েছে। সেইসঙ্গে তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। নির্মাণকাজে এসবের প্রভাব পড়বে।’

স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্র“পের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, করোনার সংক্রমণ কেটে যাওয়ায় দেশে সড়ক, কালভার্ট ও সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বেড়েছে। এজন্য পাথরের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা দাম বাড়িয়েছেন। এজন্য দেশের বাজারে পাথরের দাম বেড়েছে। যদি ভারতে সিন্ডিকেটমুক্ত করা যায়, তাহলে দাম কমবে। পাশাপাশি প্রচুর পাথর আমদানি করা সম্ভব হবে।

হিলি স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারক শাহীনুর রেজা শাহিন বলেন,সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর অর্ধেকের বেশিতে পাথর ব্যবহার হচ্ছে। এজন্য সবসময় পাথরের চাহিদা বেশি। কিন্তু হঠাৎ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এজন্য আমদানির পরিমাণ কমেছে। ভারতের পাকুর ও ঝাড়খন্ড থেকে পাথরের ট্রাক লোড দিলেও সরাসরি ঢুকতে দেয় না তারা। সিন্ডিকেট করে ট্রাকগুলো আটকে রেখে তাদের নিজস্ব ডাম্পে আনলোড করার পর দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পত্র দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। 

স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অব্যাহত আছে। তবে আগে ১০০ ট্রাকের বেশি আমদানি হতো। মাঝখানে তা কমে ২০-২৫ ট্রাকে নেমেছিল। বর্তমানে কিছুটা বেড়ে ৪০-৫০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। তবে দাম বেড়েছে। পাথর আমদানির ফলে রাজস্ব যেমন বেড়েছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় বেড়েছে। 

গত জুলাই মাসে ৪৩ হাজার ৬২৩ টন টন পাথর আমদানি হয়েছে; যা থেকে রাজস্ব এসেছে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা।’

 

 

FR/prabir