আমদানি ব্যয় কমানোর পরামর্শ

প্রকাশিত: ২৪-০৮-২০২২ ১৭:৩২

আপডেট: ২৪-০৮-২০২২ ১৮:০৬

তানজিলা নিঝুম: বিগত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের তুুলনায় আমদানি ব্যয় ৩৩ বিলিয়ন ডলার বেশি হয়েছে। আর এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে বড় ধাক্কা লেগেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনার অতিমারির পর খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ও বড় বড় প্রকল্পের উপাদান আমদানি বেড়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তারা। আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনার অতিমারির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলছে। পণ্য আর সেবা আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের জোগান সেই হারে  বাড়ছিল না। এতে বাণিজ্য ঘাটতিতে রের্কড হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছর বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক দুই-চার বিলিয়ন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে যা ছিল ২৩ দশমিক সাত-সাত বিলিয়ন ডলার। এর আগের অর্থবছরে ছিল ১৮ দশমিক পাঁচÑছয় বিলিয়ন ডলার এবং  ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ দশমিক আট-তিন বিলিয়ন ডলার। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ১৮ দশমিক এক-সাত বিলিয়ন ডলার।

বিশ^ বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে।  সেই হারে রপ্তানি পণ্যের দাম মিলছে না বিশ^বাজারে। পণ্য রপ্তানি কম ও দামের বৈষ্যমের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভের উপর চাপ কমাতে বড় চ্যালেঞ্জ আমদানি ব্যয় কমানো। ব্যয় কমাতে সরকারের নেয়া উদ্যোগ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলেই মুদ্রা বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুর করেছে এবং আমদানি ব্যয়ও কমছে বলে জানান ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

কয়েকমাসের মধ্যে আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাপশি রির্জাভের উপর চাপও কমে আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তিনি। 

           গ্রাফিক্স:

বাণিজ্য ঘাটতির চিত্র

অর্থবছর         রপ্তানি (ডলার)          আমদানি (ডলার)            ঘাটতি (ডলার)

২০২১-২২      ৪৯.২৪ বিলিয়ন         ৮২.৪৯ বিলিয়ন              ৩৩.২৪ বিলিয়ন

২০২০-২১      ৩৬.৯০ বিলিয়ন        ৬০.৬৮ বিলিয়ন             ২৩.৭৭ বিলিয়ন

২০১৯-২০      ৩২.১২ বিলিয়ন        ৫০.৬৯ বিলিয়ন              ১৮.৫৬ বিলিয়ন

২০১৮-১৯      ৩৯.৬০ বিলিয়ন        ৫৫.৪৩ বিলিয়ন              ১৫.৮৩ বিলিয়ন

২০১৭-১৮      ৩৬.২৮ বিলিয়ন        ৫৪.৪৬ বিলিয়ন               ১৮.১৭ বিলিয়ন

 

                                                  সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক

 

 

 

Tanzila/nasir