অর্থনীতিতে গতি আনতে চান যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫-০৯-২০২২ ২০:১৬

আপডেট: ০৫-০৯-২০২২ ২০:১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। প্রতিদ্ব›দ্বী ঋষি সুনাককে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন এই নেতা। সাধারণ ভোটারদের বদলে এবারের নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেছে নিলেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য। এর মধ্য দিয়ে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী না হয়েই ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করা ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হলেন লিজ ট্রাস। 

নানা বিতর্ক ও সমালোচনার জেরে  যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ দলের প্রধান বরিস জনসনকে গত জুলাইয়ে দলীয় প্রধানের পদ ছাড়তে হয়। ঘোষণা দিতে হয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়ার। তবে কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কথা জানান। এর পরপরই শুরু হয় তার উত্তরস‚রি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। কয়েক দফা ভোটাভুটির পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌঁড়ে অবশেষে বিজয়ী হলে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। 

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১২টায় ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির  চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডলি। ৮১ হাজার ৩২৬টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন লিজ ট্রাস। আর তার প্রতিদ্ব›দ্বী ভারতীয় বংশোদ্ভ‚ত ঋষি সুনাক পেয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯৯টি ভোট। 

পরে বিজয়ী ভাষণে নব নির্বাচিত দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস জানান, জ্বালানি তেলের ম‚ল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি পরিকল্পনা ঘোষণার ইচ্ছা রয়েছে তার। কর কমানো ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য নেবেন সাহসী উদ্যোগ। 

তবে এখনই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছাড়ছেন না বরিস জনসন। নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর মঙ্গলবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়বেন বরিস। পরে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে গিয়ে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে তার পদত্যাগের কথা জানাবেন জনসন। এরপর রানীর সাথে দেখা করবেন লিজ ট্রাস। সেখানে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতাকে সরকার গঠন করতে বলবেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। 

এর আগে, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন বরিস জনসন। জ্বালানি ঘাটতি, নিত্যপণ্যের ম‚ল্যবৃদ্ধি এবং রেকর্ড ম‚ল্যস্ফীতির কারণে দেশকে ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে বিদায় নিলেন তিনি। এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা কতটা সামাল দিতে পারেন সেটি দেখার অপেক্ষায় যুক্তরাজ্যবাসী।   

 

SAI/shimul