রাজতন্ত্রের সাথে সংযোগ ঘটিয়েছিলেন সাধারণের

প্রকাশিত: ০৯-০৯-২০২২ ২১:২৬

আপডেট: ০৯-০৯-২০২২ ২১:৪৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতি জনরোষের এক অস্থির সময়ে সিংহাসনে বসেছিলেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ঘটনাচক্রে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটেনের রানী হয়েছিলেন নিজ কর্তব্যনিষ্ঠায় মহিমান্বিত এলিজাবেথ। তবে, সময়ের ভাষা পাঠ করতে সক্ষম ছিলেন তিনি। তাই রাজতন্ত্রের সাথে সংযোগ ঘটিয়েছিলেন সর্বসাধারনের। হয়ে উঠেছিলেন যুক্তরাজ্যের সকল মঙ্গলের প্রতীক। বিশ্বজুড়ে বহু দেশের মানুষের কাছে তিনি পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার।

হাজার বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে রাজা-রানি হয়েছেন অনেকে, তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তিনি এমন একজন রানী, যিনি তাঁর দীর্ঘ সাত দশকের শাসনকালের পট এঁকেছেন প্রায় নির্ভুলভাবে।

বাবা রাজা ৬ষ্ঠ জর্জের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ভালোবাসার মানুষ প্রিন্স ফিলিপকে বিয়ের কারণে রাজ পরিবারে অসন্তোষের কারণ হয়েছিলেন এলিজাবেথ। সে সময়ে তাঁর রানী হওয়ার কথাও ছিলোনা। সিংহাসনের উত্তরাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে চাচা অষ্টম এডওয়ার্ড ও প্রিন্স অ্যালবার্ট ছিলেন তাঁর চেয়ে এগিয়ে। তবে, ঘটনাচক্রে এই দু’জন সিংহাসনে বসার অধিকার হারানোয় রানীর আসনে বসেন এলিজাবেথ। বাবা ৬ষ্ঠ জর্জের মৃত্যুর পর ১৯৫২ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে অর্ধ পৃথিবী শাসন করা ব্রিটিশ রাজের রানী হন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয় ১৯৫৩ সালের দোসরা জুন। 

রানি এলিজাবেথের জন্ম ১৯২৬ সালে জন্ম একুশে এপ্রিল, পুরো নাম এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরি উইন্ডসর। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন তিনি। রানি এলিজাবেথ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতিকে উপলব্ধি করেছিলেন। সে সময়ে রাজতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের নিরংকুশ আনুগত্য বদলাতে থাকে। সমাজের ধ্যান ধারণাও দ্রুত পাল্টাচ্ছিলো। এলিজাবেথ সেই পরিবর্তনকে ধারণ করেন, ব্রিটেনের ক্ষমতা কাঠামোয় পরিবর্তন আনেন। কঠোর হাতে হাল ধরেন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ভোগা যুক্তরাজ্যের। সাধারণের থেকে বিচ্ছিন্ন রাজ পরিবারকে নিয়ে আসেন সাধারণ মানুষের সংযোগে। হয়ে ওঠেন ব্রিটিশদের প্রিয় মানুষ, প্রিয় রানী।

এলিজাবেথ শুধু ব্রিটেনেই নয়, জনপ্রিয় ছিলেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতেও। তিনিই প্রথম ব্রিটিশ রানী, যিনি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। ভারতবর্ষের নানা দেশেও এসেছেন তিনি। দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৮৩ সালের নভেম্বর বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

দায়িত্ববোধ ও সাধারণের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে রাজ কার্য পরিচালনা এলিজাবেথকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। ক্রান্তিকালের মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়েছেন। মাস তিনেক আগে রানীর সিংহাসনে বসার ৭০ বছর পূর্তি হলো। সে উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখেছে বিশ্বের শত কোটি মানুষ। বাকিংহাম প্যালেসের সামনে লাখো মানুষ ভিড় জমিয়ে রানীর প্রতি আনুগত্য-ভালোবাসা জানিয়েছে। এই ভালোবাসা আর কোন ব্রিটিশ রাজ শাসক অর্জন করতে পারেনি, এখানেই অনন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

এলিজাবেথকে বর্ণনা করা যায় তাঁর নিজের কথা দিয়েই। সিংহাসনে আরোহণের রজতজয়ন্তীতে রানী বলেছিলেন- আমি আমার জীবন জনগণের সেবায় উৎসর্গ করেছি, তাই আমার কোন খেদ নেই, নেই কোন পিছুটানও।

 

KHR/nasir