বায়ু দূষণেও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়!

প্রকাশিত: ১৩-০৯-২০২২ ১৫:১৪

আপডেট: ১৩-০৯-২০২২ ১৫:১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বায়ুদূষণ কিভাবে অধূমপায়ীদের ফুসফুসে ক্যান্সারের কারণ হয় তা জানা গেছে বলে দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটÑএর গবেষকরা। তারা গবেষণায় দেখেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে নির্গত ধোঁয়ার ক্ষতিকর কণাগুলো সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই ফুসফুসে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে। তাই, বায়ুদূষণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

অধূমপায়ীদের ফুসফুসে ক্যান্সারের কারণ নিয়ে সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট। গবেষকদের দাবি, দূষণ কিভাবে অধূমপায়ীদের ফুসফুসে ক্যান্সারের কারণ হিসেবে কাজ করে সেই প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন তারা। তাদের মতে, যানবাহন থেকে নির্গত ডিজেলের ধোঁয়া, ব্রেক প্যাড, টায়ার এবং রাস্তার ধুলা থেকে আসা ক্ষতিকর কণাগুলো, সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই টিউমার সেলকে প্রভাবিত করে; যা ফুসফুসে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।

গবেষণাটিতে দেখা গেছে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হলে তা থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষুদ্র কণা বাতাসে মিশে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করে। এই কণাগুলো আকারে মানুষের চুলের প্রস্থের ৫০ ভাগেরও কম। এরা ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে রক্তকে আরও আঠালো করে তোলে এবং প্রদাহের সৃষ্টি করে। ফলে ধূমপায়ী ব্যক্তিদের মতো অধূমপায়ী ব্যক্তিদের মধ্যেও ফুসফুস ক্যান্সারে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

গবেষণাটি মানবদেহ এবং পরীক্ষাগারে একটি নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তনের বিশে¬ষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। গবেষণা পর্যালোচনায় যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কখনও ধূমপান করেনি।

ক্যান্সারসহ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে জলবায়ু মোকাবেলাসহ বায়ুদূষণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী, সিগারেটের ধোঁয়ার বিষাক্ত রাসায়নিকের চেয়ে চরম বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আছে বেশি মানুষ। এদিকে, চলতি বছরের শুরুর দিকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১৮ লাখ মানুষ মারা যায়।

aleya/sharif