'প্যারিস চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার'

প্রকাশিত: ১৬-০৯-২০২২ ০৮:২৫

আপডেট: ১৬-০৯-২০২২ ০৮:২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রিন-হাউজ গ্যাস নির্গমন বন্ধে প্যারিস চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রধানমন্ত্রী বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি  খাতকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আজ শুক্রবার (১৬ই সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, সূর্য থেকে নিঃসরিত অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবে মানব দেহে চর্ম-ক্যান্সার, চোখের ছানিসহ অন্যান্য প্রাণী, উদ্ভিদ, শস্য ও বাস্তুসংস্থানকে বিবিধ বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে ওজোন স্তর সুরক্ষা দেয়। ওজোন স্তর সুরক্ষার জন্য ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়। ফলে বিগত ৩৫ বছরে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষয়িষ্ণু ওজোন স্তর ধীরে ধীরে পুনর্গঠন হতে শুরু করেছে। সূর্যালোক মানুষসহ পৃথিবীর সব জীবের জন্য নিরাপদ হচ্ছে।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ওজোন দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘পঁয়ত্রিশে মন্ট্রিল প্রটোকল  জীবন রক্ষায় অঙ্গীকার অবিচল’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিবেশ আদালত আইন- ২০১০, বিপজ্জনক জাহাজ ভাঙার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা- ২০১১ এবং ২০১৪ সালে একটি সংশোধিত ও পরিমার্জিত ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রণয়ন করেছি। জাতীয় পরিবেশ নীতি- ২০১৮, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন- ২০১৯ এবং বিশুদ্ধ বায়ু আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছি। দেশে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পর তিনি অন্যান্য গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশব্যাপী বনায়ন ও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেছিলেন।

এসময় ওজোন স্তর পুনর্গঠনে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মন্ট্রিল প্রটোকল সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ও ওজোন সচিবালয় ২০১২, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে প্রশংসামূলক সনদপত্র প্রদান করেছে। এটি অমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং অনুপ্রেরণা।

এছাড়া ওজোন স্তর ক্ষয়কারী হিসেবে চিহ্নিত দ্রব্য এইচসিএফসি-এর ব্যবহার ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে ৬৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হ্রাসে এইচপিএমপি স্টেজ-২ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

rocky/sharif