রাজকীয় আয়োজনে সমাহিত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ

প্রকাশিত: ২০-০৯-২০২২ ০২:৩২

আপডেট: ২০-০৯-২০২২ ০২:৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও রাজকীয় আয়োজনে শেষ বিদায় জানানো হলো রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে। সোমবার দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার আনুষ্ঠানিকতায় প্রার্থনা, রাজকীয় গান স্যালুট ও শবযাত্রা শেষে উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে সমাহিত করা হয় ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে। রাজকীয় শেষকৃত্যে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বনেতারা। শেষকৃত্যের মূল আনুষ্ঠানিকতায় ২ হাজার বিদেশি অতিথি ছাড়াও পথে পথে দশ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এদিকে, রানীর মৃত্যু ঘিরে ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় শোক আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সিংহাসনে আসীন থাকা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের চিরবিদায়ের আয়োজনও করা হয় রাজসিক। টানা ১০ দিন রাজকীয় আচার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ব্রিটেনবাসী। এরপর সোমবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা লন্ডন সময় সকাল থেকে শুরু হয়ে চলে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে।

ওয়েস্টমিনস্টার হলে উঁচু বেদী থেকে রানীর কফিন নিয়ে সোমবার লন্ডন সময় সকাল সাড়ে ১০ টায় শোকযাত্রা শুরু হয় ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের উদ্দেশ্যে। সামরিক কুচকাওয়াজের সাথে শোক মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাজা তৃতীয় চার্লস। তাঁর পেছনে হাঁটেন রাজপরিবারের সদস্যরা। রানীর ৯৬ বছর জীবনের সাথে মিলিয়ে ৯৬বার তোপধ্বনি দেয়া হয়। প্রতি মিনিটে বাজতে থাকে গীর্জার ঘণ্টা।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা আগেই ওয়েষ্ট মিনিস্টার অ্যাবের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। ১৩ শতকের এই গির্জায় রানীর কফিন পৌঁছানোর পর গীর্জার প্রধান ডেভিড হোয়েলের পরিচালনায় শুরু হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্ব। পরে দুই হাজার অতিথিসহ রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রানীর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়। বাইবেলের বাণী পাঠ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও কমনওয়েলথের মহাসচিব। এরপর পুরো ব্রিটেন জুড়ে পালন করা হয়েছে দুই মিনিটের নীরবতা। ৭০ বছর আগে সিংহাসনে আরোহনের সময় রানীকে যে গানে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিলো, তাঁর শেষ বিদায়েও বাজানো হয় সেই গান। 

এরপর যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এই পর্বের।

পরে রানীর কফিন বহনকারী বহরটি ওয়েষ্টমিনস্টার অ্যাবে থেকে ওয়েলিংটন আর্চের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পায়ে হেঁটে ৪৫ মিনিটের এই যাত্রাপথে পার্লামেন্ট স্কয়ার, হোয়াইট হল ও কুইন্স গার্ডেন অতিক্রম করে শোকযাত্রাটি। এসময় পথজুড়ে সমাগম ঘটে লাখো মানুষের। শোকযাত্রা অতিক্রমের সময় বিশ্বখ্যাত ঘড়ি বিগবেনের কাটা একমিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়, যা ইতিহাসের বিরল এক ঘটনা।

এরপর রানীর কফিন তোলা হয় রাজকীয় শবযানে। ওয়েলিংটন আর্চ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রায় এই শবযান পৌঁছায় লন্ডনের পশ্চিমপাশের উইন্ডসর শহরের প্রাসাদে। এই যাত্রাপথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে রানীকে অশ্র“সিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানায় ব্রিটিশরা।

উইন্ডসর ক্যাসেল থেকে রানীর তৃতীয় ও শেষ শবযাত্রা যায় সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে। সেখানে শেষকৃত্যের সবশেষ প্রার্থনা সভায় যোগ দেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রাজপরিবারের সদস্যরা। এরপর রাজপরিবারের সদস্যরা জর্জেস চ্যাপেল ত্যাগ করেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রানীর কফিন প্রয়াত স্বামী প্রিন্স ফিলিপের সাঙ্গে রাখা হয় রাজকীয় ভল্টে। পরে লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপকে সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে সমাহিত করা হয়। যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য ঘিরে ১১ দিনের রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা।

 

AR/prabir