কুশিয়ারার পানিবণ্টনে ভারতের অনুমোদন

প্রকাশিত: ২৯-০৯-২০২২ ০৯:২৯

আপডেট: ২৯-০৯-২০২২ ১৫:০১

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুশিয়ারা নদীর ১৫৩ কিউসেক পানিবণ্টনে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে এতে অনুমোদন দেন মন্ত্রীসভার সদস্যরা। আনুষ্ঠানিক সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে কুশিয়ারা থেকে পানি উত্তোলন সম্ভব হবে। ছাড়া দুই পক্ষের যৌথ নদী কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে যেসব নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের কারিগরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) দেশটির মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সেচকাজের জন্য কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতা স্মারক সই এমনভাবে করেছে, যখনই স্মারকটি সই হয়েছে তখন থেকেই তা বাস্তবায়ন করা যাবে। কিন্তু তারপরও কুশিয়ারা নদীর যে অংশ থেকে পানি উত্তোলন করা হবে এবং নালা বা যে খাল দিয়ে উত্তোলিত পানি আসবে তা উন্নয়নের আগে ভারতকে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে, যাতে কোনো বাধা না আসে। 

অন্যদিকে, ফেনী নদী থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম অঞ্চলের জন্য ১৮২ কিউসেক খাবার পানি উত্তোলনের জন্য বিগত ২০১৯ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতা সই হয়েছিল তা সামনে কার্যকর হবে। ফেনী নদী ইস্যুতে যখন সমঝোতা সই হয় তখন দুই পক্ষের প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে স্থান নির্ধারণ, মনিটরিং সিস্টেম, পানি উত্তোলনের জন্য পাম্পের ক্যাপাসিটি ইত্যাদি বিষয়ের নিষ্পত্তি না হওয়ায় সেই সমঝোতা এখনও কার্যকর হয়নি, যা আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। 

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সূত্রে জানা গেছে, এখনও বর্ষা এবং নদীর পানিপ্রবাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণে থাকায় পানি উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে সব প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পানি উত্তোলনও সম্ভব হবে। তাই অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক মনে হলে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। যাতে কুশিয়ারা থেকে পানি উত্তোলনের প্রস্তুতি নিতে কোনো বাধা না আসে। 

সূত্রগুলো আরও বলছে, সর্বশেষ জেআরসি বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে কুশিয়ারা এবং ফেনী নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিষ্পত্তি করার সম্মতি নেওয়ার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে আরও প্রায় এক ডজন নদী ইস্যুতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নদী ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে শুধু পানির হিস্যা বণ্টনই নয়, নদীর পরিবেশ উন্নয়ন, বন্যার পূর্বাভাসসংক্রান্ত সহযোগিতা, যৌথ নদীর অববাহিকা থেকে পানি উত্তোলনসহ নদীর ইতিবাচক ব্যবহারের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে- মহানন্দা, সারি গোয়াইন, হাওরা, সোমেশ্বরী, জাদুকাটা, ঝালোখালি, ধরলা, পিয়াইন, গঙ্গা, মনু, খোয়াই, গোমতী, মুহুরী দুধকুমার। ছাড়া দুই পক্ষের সই করা গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি আগামী ২০২৬ সালে শেষ হবে। ওই চুক্তিটি নবায়ন করতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। নদীসংক্রান্ত এসব বিষয় এগিয়ে নিতে জেআরসির কারিগরি কমিটি আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় বৈঠকে বসবে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৬ই সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং একান্ত বৈঠক করেন। ওইদিন ভারত প্রজাতন্ত্রের জলশক্তি মন্ত্রনালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রতিটি ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকটি আসাম সরকারকে সমঝোতা স্মারকটি শুষ্ক মৌসুমে ( নভেম্বর-৩১ মে) কুশিয়ারা নদীর সাধারণ অংশ থেকে ১৫৩ কিউসেক পর্যন্ত পানি উত্তোলন করতে সক্ষম করবে। এছাড়াও  দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পর দিন ৭ই সেপ্টেম্বর যৌথ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। যৌথ বিবরণীতে দুই পক্ষের পানি সহযোগিতা ইস্যুতে বলা হয়, ভারতের ফেনী নদীর অনুরোধ বাংলাদেশ বিবেচনায় নিয়েছে। 

SAI/sharif