ইউএনওকে হত্যাচেষ্টা; আসামি রবিউলের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ০৮-১১-২০২২ ১৫:৫৩

আপডেট: ০৮-১১-২০২২ ১৫:৫৩

দিনাজপুর সংবাদদাতা: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনও ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ই নভেম্বর) সকালে জেলা দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক বেগম সাদিয়া সুলতানা এই আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় রবিউল ইসলাম (৩৫) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল ইসলাম দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফরাশ পদে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তাঁকে বদলি করা হয় ঘোড়াঘাট উপজেলায়। সেখানে ইউএনওর বাসভবনে মালির কাজ করতেন রবিউল।

২০২০ সালে ২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা। পরে ইউএনও’র ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। 

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্তের কাজ শুরু করে। পরে তদন্তের ভার পুলিশের হাতে এলে ইউএনওর বাসভবনের কর্মরত রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ১২ সেপ্টেম্বর রংপুর রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারী হিসেবে রবিউলের নাম নিশ্চিত করেন।

পুলিশের জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর রবিউল দিনাজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৭–এর বিচারক ইসমাইল হোসেনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে রবিউল জানিয়েছে, চুরির কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করায় ওয়াহিদার ওপর হামলা চালায় সে। পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হাইকোর্ট থেকে এতদিন জামিনে ছিল রবিউল।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সামসুর রহমান পারভেজ বলেন, এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেও আসামির সাজা কম হয়েছে। ৩০৭ ধারায় যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাতে আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

FR/sharif