অর্থনৈতিক সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলো

প্রকাশিত: ০৮-১১-২০২২ ১৯:১৬

আপডেট: ০৮-১১-২০২২ ১৯:১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অর্থনীতির জটিল জালে জড়িয়ে গেছে ইউরোপিয় দেশগুলো। জীবনযাত্রার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সংকটে পড়েছে মহাদেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ। একবেলা খাবার খাওয়া বন্ধ করেছে ২৯ শতাংশ ইউরোপিয়ান। প্রতি ১শ’ জনের মধ্যে ৪২জনই ধারদেনা করতে বাধ্য হচ্ছে। সংসার খরচে কাটছাঁট করেও অনেকে খুঁজছে দুই চাকরি। বিস্ময়কর এসব তথ্য উঠে এসেছে ফ্রান্সের দারিদ্র্য বিরোধী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিকিউরস পপুইলারির এক জরিপে। 

পালটে গেছে অর্থনীতির জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ধরণ। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে তার প্রভাব পড়েছে ইউরোপের নাগরিকদের ওপরেও। অর্থনীতি নিয়ে খুব বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে রয়েছে দেশগুলোর এক চতুর্থাংশ মানুষ।

ফ্রান্সভিত্তিক দারিদ্র্যবিরোধী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিকিউরস পপুইলারির জরিপে অংশ নেয়া ছয়টি দেশের ৮০ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে প্রাত্যহিক ব্যয়ে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে। ধারদেনা করতে বাধ্য হচ্ছে ৪২ ভাগ মানুষ। জীবনযাত্রার মান ঠিক রাখতে দু’টি চাকরি খুঁজছে ৪০ শতাংশ। সংকট বাড়ছে গৃহায়ণ, ভ্রমণ, অবসর কার্যক্রম, চিকিৎসা এবং বস্ত্র খাতের ব্যয়েও। 

অর্থনীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে গ্রিস। ২০১৯ সালের তুলনায় দেশটির ৬৮ শতাংশ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে গেছে। একই অবস্থা ফ্রান্স, ইতালি, জার্মাানি, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের অধিকাংশ নাগরিকের। 

ইউরোপের অর্থনীতিতে ভাটার টান পড়া শুরু হয় ২০০৭ সালেই। ব্যয় সংকোচন নীতি মেনে সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মহামারির থাবা। বর্তমানে ইউরোপের অর্থনীতিকে দমিয়ে রেখেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। চলমান পরিস্থিতিতে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, সঙ্গে জ্বালানীর দাম। সাধারণের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ভোগ্যপণ্যের দামও। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইউরোপিয় দেশগুলোর আগামী দিনের অর্থনীতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

shamima/shimul