যমুনার ওপর দৃশ্যমান হচ্ছে নতুন রেলসেতু

প্রকাশিত: ১৯-১১-২০২২ ১৪:১৭

আপডেট: ১৯-১১-২০২২ ১৪:৪৯

তারেক সিকদার: যমুনা নদীর ওপর আলাদা রেলসেতু ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। সেতুর টাঙ্গাইল প্রান্তে ৪টি স্প্যানও বসে গেছে। পুরো সেতুর কাজ এগিয়েছে ৪৬ শতাংশ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সেতু চালু হলে ঢাকার সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ যেমন সহজ করবে তেমনি সাশ্রয় হবে সময়ের। ২০২৪ সালেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।

পদ্মা সেতুর পর দেশের আরেক মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। টাঙ্গাইল প্রান্তে স্প্যান বসানোর মাধ্যমে প্রমত্তা যমুনার বুকে দৃশ্যমান হচ্ছে এই সেতু। যমুনা নদীর ওপর বর্তমানে চালু থাকা বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩শ' মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় এই রেলসেতু। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো: মাসুদুর রহমান, টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জকে সংযোগকারী ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুতে ইতোমধ্যেই বসেছে ৪টি স্প্যান। মোট স্প্যান বসবে ৪৯টি। সেতুর ৫০টি খুঁটির মধ্যে ৩৭টির কাজ শেষ। দু'পাশে ভায়াডাক্ট বা উড়াল রেলপথ ও সংযোগ রেলপথসহ ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। 

এই রেল সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৬ হাজার ৭শ’ ৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা ৭২ শতাংশ ও বাংলাদেশ সরকার ২৮ শতাংশ ব্যয় বহন করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো: মাসুদুর রহমান জানান, দেশে ডলার সংকট কিংবা বৈশ্বিক সংকটে সেতু নির্মাণে কোন প্রভাব পড়েনি। 

জাপানের ৫টি ঠিকাদারি কোম্পানির কনসোটিয়ামে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হলেও তা ২০২৪ সালের আগস্টেই শেষ হবে বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের।

যমুনার ওপর দেশের সবচেয়ে বড় পৃথক এই রেল সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলার সাথে ট্রেন চলাচল সহজ হবে। যা আন্তঃএশিয়া রেল যোগাযোগের মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। খুলবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর টাঙ্গাইল প্রান্ত থেকে। 

TH/sharif