আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে ৩ নারীকে বেত্রাঘাত

প্রকাশিত: ২৪-১১-২০২২ ১৫:১৬

আপডেট: ২৪-১১-২০২২ ১৫:১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সামনে তিন নারীসহ ১২ জনকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এই ব্যাক্তিরা ব্যভিচার, ডাকাতি এবং সমকামী যৌনতা সহ "নৈতিক অপরাধের" জন্য দোষী ছিলেন বলে জানিয়েছেন একজন তালেবান কর্মকর্তা। তথ্যসূত্র: বিবিসি 

এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইসলামপন্থী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করেছে।

এই পদক্ষেপটি ১৯৯০ এর দশকে পূর্ববর্তী তালেবান শাসনে দেখা কঠোর অনুশাসনে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওমর মনসুর মুজাহিদ, পূর্ব আফগানিস্তানের লোগার অঞ্চলের একজন তালেবান মুখপাত্র বলেছেন, তিন নারীকে শাস্তি দেওয়ার পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তবে কতজন তা স্পষ্ট নয়।

পুরুষ এবং মহিলা প্রত্যেকে ২১ থেকে ৩৯টি বেত্রাঘাত পেয়েছেন। একজন ব্যক্তি সর্বাধিক ৩৯টি পেতে পারেন। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আফগানিস্তানের তাখার প্রদেশে গত সপ্তাহে একইভাবে বেত্রাঘাতের ঘটনায় ১৯ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

লোগার প্রদেশে চাবুক মারার এক সপ্তাহ পরে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা, আখুন্দজাদা, গোষ্ঠীর ইসলামি শরিয়া আইনের কঠোর পাঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু অপরাধের জন্য শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দেন।

ইসলামিক আইনের এই ব্যাখ্যার মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড, প্রকাশ্য অঙ্গচ্ছেদ এবং পাথর নিক্ষেপ।

গত বছর ক্ষমতা গ্রহণ করার সময় আরও পরিমিতভাবে শাসন করার প্রতিশ্র“তি দেওয়ার পরে, সর্বোচ্চ নেতার আদেশ অনুযায়ী তালেবান অধিকার এবং স্বাধীনতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। 

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তাদের শাসনামলে, তালেবানরা কাবুলের জাতীয় স্টেডিয়ামে বেত্রাঘাত এবং মৃত্যুদণ্ডসহ জনসমক্ষে নিয়মিত শাস্তি প্রদানের জন্য নিন্দিত হয়েছিল।

সরকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা নারীদের উপর নৃশংস দমন-পীড়নের পুনরাবৃত্তি করবে না; কিন্তু গোষ্ঠীটির শাসনে ফিরে আসার পর থেকে নারীর স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়েছে এবং অধিকারের দাবিতে অনেক নারীকে মারধর করা হয়েছে।

Adnan/sharif