এশিয়ায় ক্ষীণদৃষ্টির মহামারির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ২৭-১১-২০২২ ১৬:১৫

আপডেট: ২৭-১১-২০২২ ১৬:১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে চোখে কম দেখতে পাওয়ার সমস্যা। আগামী তিনদশক পর পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যায় ভুগবে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিবিসির একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যা বেশি দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে। বাইরে খেলাধুলা, চলাফেলা থেকে বিরত থেকে ঘরের ভেতরে অভ্যস্ত হওয়াকে ক্ষীণদৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন গবেষকরা। 

বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে কিছু সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। এরই একটি মায়োপিয়া বা চোখে কম দেখতে পাওয়ার সমস্যা। চোখের রেটিনাকে দীর্ঘদিন অল্প দূরের বস্তু দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে দূরের বস্তু দেখতে সমস্যা হওয়াই মায়োপিয়া। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মাঝে এ সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ৮ থেকে ১২ বছরের শিশুরা মাইয়োপিয়ার প্রধান ভুক্তভোগী।  

মায়োপিয়া বর্তমানে সিঙ্গাপুরের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দেশটির জাতীয় চক্ষু কেন্দ্রের চিকিৎসরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে  ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা। সিঙ্গাপুরের ৮০ শতাংশ তরুণ তরুণী এই সমস্যায় ভুগছেন। কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখলেও দূরের বস্তু দেখতে চশমার সহায়তা নিতে হয় তাদের। 

শুধু সিঙ্গাপুরে নয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ তরুণ ক্ষীণদৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে। একই হারে এ সমস্যা বেড়েছে যুক্তরাজ্যেও। অতীতের যে কোনো সময় থেকে সমস্যাটি দ্রুত বাড়ছে। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে। এ হারে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের অর্ধেক সংখ্যক মানুষ ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যায় পড়বে। 

বাংলাদেশ ও ভারতের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও বাড়ছে মাইয়োপিয়ায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা। দেশ দুটিতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ চোখের এই সমস্যায় ভুগছে। আফ্রিকা মহাদেশে 'মায়োপিয়া' ছিল বিরল। তবে সম্প্রতি সেখানেও এই সমস্যা বাড়ছে।

গবেষকরা বলছেন, জিনগত কারণে ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যায় ভুগছেন অল্পসংখ্যক মানুষ। বাইরের পরিবেশে না যাওয়া, ঘরের অভ্যন্তরে অধিকাংশ সময় কাটানো, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে আসক্তি, দীর্ঘ সময় বইয়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখাকে মাইয়োপিয়ার জন্য দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। সমস্যা প্রতিরোধে শিশুদের প্রকৃতির কাছাকাছি নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

shamima/sharif