বীরপ্রতীক তারামন বিবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ০১-১২-২০২২ ১১:০৫

আপডেট: ০১-১২-২০২২ ১১:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি অনন্য নাম তারামন বিবি। মাত্র দু’জন বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে একজন হলেন তারামন বিবি। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতে মারা যান। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তারামনের বয়স ছিল মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ বছর। তখন তিনি নিজ গ্রামে (১১নং সেক্টরে) ছিলেন। মুহিব হালদার নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাকে অস্ত্র চালনা শেখান। এরপর একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় তারামন ও তার সহযোদ্ধারা জানতে পারেন পাকবাহিনীর একটি গানবোট তাদের দিকে আসছে। তারামন তার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন এবং তারা শত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন। এরপর তারামন অনেক সম্মুখযুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অংশ নেন। এ কারণে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।

কিন্তু বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর জানতে পারেননি। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিমল কান্তি দে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী এবং রাজিবপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সবুর ফারুকীর সহায়তায় তাকে খুঁজে বের করেন। এরপর ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে বীরপ্রতীক খেতাবের পদক তুলে দেওয়া হয়।

রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামের প্রয়াত আব্দুস সোবহানের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন তারামন বিবি। তিনি লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রান্না করতেন ১৪ বছর বয়সী তারামন। রান্না করতে করতে অস্ত্র চালাতে শেখেন। তারপর রান্নার খুন্তি ফেলে রাইফেল হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অংশ নেন সম্মুখ সমরে।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মাত্র দু’জন নারীর মধ্যে একজন হচ্ছেন তারামন বিবি। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে কোরআন খতমসহ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে অসীম সাহসিকতার সাথে অন্যরকম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এক দুর্র্ধষ কিশোরী। এই দুর্র্ধষ কিশোরীর নাম তারামন বিবি।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানি বাহিনীর খবর সংগ্রহ করা এবং সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই পর্যন্ত করেছিলেন তিনি। সেই অসীম সাহসিকতার জন্য বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাঠি ইউনিয়নের কাছারিপাড়ার শংকর মাধবপুর গ্রামে তারামন বিবির জন্ম। শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কিশোর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তারামন বিবিকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয় ১৯৯৫ সালে। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

আমাদের কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানিয়েছেন দিনটিতে গ্রামের বাড়িতে এই বীর প্রতীকের স্মরণে কোরআন খতমসহ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের মায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

Adnan/sharif