মিরাজের বীরত্বে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়

প্রকাশিত: ০৪-১২-২০২২ ১১:৩৯

আপডেট: ০৪-১২-২০২২ ২২:৫৪

ক্রীড়া ডেস্ক: অসম্ভবকে সম্ভব করলো বাংলাদেশ। শেষ উইকেটে মেহেদি হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমানের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ভারতকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আজ (রোববার) মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ও এবাদত হোসেনের বোলিং তোপে মাত্র ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে এক উইকেট আর চার ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় টাইগাররা।

ভারতের দেওয়ার ১৮৭ রানের লক্ষ্যে প্রথম দশ ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত ও এনামুল হক বিজয়ের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শান্ত প্রথম বলেই ফেরেন কোনো রান না করে। দশম ওভারে দলীয় ২৬ রানের মাথায় ১৪ রান করে ফেরেন বিজয়।

চাপ সামলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে টাইগারদের পথ দেখাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। দু'জনের ব্যাটে সহজ জয়ের পথেই এগোচ্ছিল টাইগাররা। তবে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় ওয়াশিংটন সুন্দরের শিকার হন লিটন দাস। ৬৩ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন লিটন।

লিটনের বিদায়ের পর সাজঘরের পথ ধরেন সাকিবও। ২৪তম ওভারে সুন্দরের শিকার হওয়ার আগে ৩৮ বলে করেন ২৯ রান। তাতে আবারও চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে এরপর জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু দল যখন জয়ের পথে তখন হতাশ করে ফেরেন রিয়াদ। দলীয় ১২৮ রানের সময় ১৪ রান করে আউট হন তিনি।

পরের ওভারে প্রথম বলে মুশফিক ফিরলে চাপ বাড়ে আরো। এরপর দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় দায়িত্বহীন শট খেলে উইকেট দেন আফিফ হোসেন। দলের খাতায় ২ রান যোগ হতে পতন হয় আরো দুই উইকেটের।

তবে শেষদিকে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে লড়ে যান মেহেদি মিরাজ। এই দু'জন অর্ধশত রানের জুটি গড়ে জয় এনে দেন বাংলাদেশকে। মিরাজ ৩৯ বলে ৩৮ রান আর মোস্তাফিজুর ১১ বলে ১০ রান করেন।

এর আগে দুপুর ১২টায় শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অধিনায়ক লিটন দাস। এরপর হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান মিরাজরাও বোলিংয়ে এসে চাপ ধরে রাখেন। যার ফলশ্রুতিতে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে উইকেটের দেখাও পেয়ে যায় বাংলাদেশ। মিরাজকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করেন শিখর ধাওয়ান, বলটা ব্যাটে লেগে লাগে স্টাম্পে। পড়ে যায় বেল। ভাঙে ভারতের উদ্বোধনী জুটি।

মাত্র ৭ রান করেই সাজঘরের পথ ধরেন ধাওয়ান। দলীয় ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। এরপর দেখেশুনে খেলে দলকে কিছুটা পথ এগিয়ে নেন কোহলি আর রোহিত। ১০ ওভারে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৪৮ রান।

একাদশতম ওভারে এসে জোড়া শিকার করে ভারতকে ফের চাপে ফেলে দেন সাকিব। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলিকে তিন বলের মধ্যে সাজঘরে ফেরান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলিয়ে রোহিতকে বোল্ড করেন সাকিব। এক বল বিরতি দিয়ে ফেরান কোহলিকে।

ওই উইকেটে অবশ্য অবদান বেশি বলতে হবে লিটনের। এক্সট্রা কভারে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন লিটন। কোহলি  যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে জুটি গড়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার আর লোকেশ রাহুল। তাদের ৫৬ বলে ৪৩ রানের জুটিটি অবশেষে ভাঙেন এবাদত হোসেন।

২০তম ওভারের শেষ বলে এবাদতের শর্ট ডেলিভারি পুল করতে গিয়ে বল সোজা আকাশে তুলে দেন আইয়ার। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম নেন সহজ ক্যাচ। ৯২ রানে ভারত হারায় ৪ উইকেট। একশ'র আগে ৪ উইকেট হারানো দলকে টেনে তুলছিলেন লোকেশ রাহুল আর ওয়াশিংটন সুন্দর। ৭৫ বলে তারা ৬০ রান যোগ করলে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।

তবে সাকিবের ঘূর্ণিতে ফের কোণঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারিরা। সুন্দরকে সাজঘরে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বাঁহাতি এই স্পিনার। তাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পয়েন্টে এবাদতের ক্যাচ হন সুন্দর।

এরপরের ওভারে এবাদত নিজেই আঘাত হানেন। এবার তাকে সাহায্য করেন সাকিব। শাহবাজের একদম নিচু হয়ে যাওয়া ক্যাচ কভারে দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন। তার পরের ওভারে সাকিব বোল্ড করে ফেরান শার্দুল ঠাকুরকেও। ওই ওভারেই দুই বল পর চাহালকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফাইফার পূরণ করেন সাকিব। ১৫৬ রানে ৮ উইকেট হারানো ভারতের শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন লোকেশ রাহুল।

এবাদতের শর্ট বলের ফাঁদে শেষ পর্যন্ত তিনিও ধরা পড়েন। থার্ড ম্যানে সহজ ক্যাচ নেন এনামুল বিজয়। ৭০ বলে গড়া রাহুলের ৭৩ রানের ইনিংসে ছিল ৫ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কার মার। বাংলাদেশের পক্ষে একাই ৫ উইকেট শিকার করেন সাকিব আল হাসান এবং ৪ উইকেট শিকার করেন এবাদত হোসেন।

AR/shimul