‘গুম নিয়ে ঢালাও অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

প্রকাশিত: ০৬-১২-২০২২ ০০:১০

আপডেট: ০৬-১২-২০২২ ০০:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম করা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর করা অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত। সম্প্রতি রিয়েল ক্লিয়ার ওয়ার্ল্ড-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন। নিবন্ধনে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঢালাও অভিযোগ যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা প্রমাণিত হয়েছে ‘নিখোঁজ’ অনেক ব্যক্তির ফিরে আসার মধ্য দিয়ে। 

নিবন্ধে বলা হয়, এসব অভিযোগের পক্ষে যে প্রমাণ হাজির করা হচ্ছে, তা অস্তিত্বহীন। সরকারের বিরুদ্ধে যারা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন বলেও উল্লেখ করেন। নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে নিবন্ধনে উল্লেখ করেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়ানো বেশ কয়েকজনের কথা উল্লেখও করেছেন তিনি। 

এর মধ্যে একজন ‘অধিকার’ নামক একটি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আদিলুর রহমান খান। যিনি সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এবং ২১ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। আদিলুর রহমানেরও অতিরঞ্জনের ইতিহাস আছে। ২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ চলাকালে ৬১ জন মারা যাওয়ার কথা জানান তিনি। পরে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, আদিলুর রহমান যাদের মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন, তাদের অনেকেই সেদিন নিজ নিজ মাদ্রাসায় ক্লাস করেছে।

অভিযুক্ত আরেকজন ডেভিড বার্গম্যান। নিজেকে সাংবাদিক দাবি করলেও, বছরের পর বছর ধরে তিনি সরকারের নিরলস সমালোচক। এছাড়া তার শ্বশুর ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক জোট ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ছিলেন। অভিযোগ করা আরেকজন হলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার পিতা সৈয়দ মহিবুল হাসান আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ সম্প্রতি বাংলাদেশে ‘জোরপূর্বক গুমের’ শিকার ৭৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় থাকা ৭৬ জনের মধ্যে ২৮ জন খুন থেকে শুরু করে মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত। তাদের কেউ কেউ কারাগারে রয়েছেন এবং আদৌ ‘নিখোঁজ’ হননি। অন্যরা জামিনে আছেন এবং অনেকে নিজেদের বাড়িতেই আছেন। অথচ বিতর্কিত এ তালিকা ধরেই বাংলাদেশকে বারবার অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, সানায়াইমা রাজকুমার (প্রকৃত নাম রাজকুমার মেঘান) নিখোঁজ হিসেবে জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত। তবে তিনি ভারতে বন্দি ছিলেন এবং বর্তমানে তার পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই চট্টগ্রামের কল্পনা চাকমা, বরিশালের মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ মোনায়েম এবং গাজীপুরের মো. হাসান খানসহ নিখোঁজ হওয়া কয়েকজনকে ওই তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক, রংপুরের মোহাম্মদ আখতার হোসেন ও খোন্তাকাটার (বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা) মো. আলতাফ হাওলাদার নিখোঁজের তালিকায় থাকলেও, বাস্তবে তারা কর্মরত এবং নিজ নিজ বাড়িতেই বসবাস করছেন। তালিকায় থাকা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম একটি মাজারে লুকিয়ে ছিলেন, যা জানত না তার পরিবারও।

মোহাম্মদ এ আরাফাত, বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার জন্য যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন, তাদের পক্ষপাতদুষ্ট না হওয়ার কথাও জানান। 

 

SAI/Bodiar