ক্রিমিয়ার সেই সেতু ঘুরে দেখলেন পুতিন

প্রকাশিত: ০৬-১২-২০২২ ১৩:০১

আপডেট: ০৬-১২-২০২২ ১৩:০১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মানেই নতুন নতুন কিছু। শুধু প্রেসিডেন্ট হিসেবেই নয়, বরং ব্যক্তিজীবনেও তিনি বেশ রহস্য, রোমাঞ্চ ও অভিযানপ্রিয়। এবার তিনি একটি মার্সিডিজ গাড়ি চালিয়ে ক্রিমিয়া সেতু পার হলেন। সোমবার সেতুটি পার হওয়ার সময় রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন পুতিনের সঙ্গে ছিলেন। সূত্র: রয়টার্স

২০১৮ সালে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক ও রেল সেতুটি পুতিন নিজে উদ্বোধন করেছিলেন। ইউরোপ মহাদেশের বৃহত্তম এই সেতুটিকে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে সংযুক্ত করেছিল এই সেতু।

কিন্তু এবছরের ৮ অক্টোবর বোমা বিস্ফোরণের ফলে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেদিন ছিল পুতিনের ৭০তম জন্মদিনের পরেরদিন। ইউক্রেইনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এই হামলা সংগঠিত করেছে বলে অভিযোগ রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের। কিন্তু ইউক্রেইন কখনো এর দায় স্বীকার করেনি। 

বিস্ফোরণে সেতুটির সড়ক পাশের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ বিস্ফোরণে পাশের রেল সেতুতে রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়ার পথে থাকা একটি ট্রেনের জ্বালানিবাহী সাতটি ট্যাংকার ওয়াগনও ধ্বংস হয়।

বোমা বিষ্ফোরণে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নিজে গাড়ি চালিয়ে সেতুটি পার হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।  রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে পুতিনকে মার্সিডিজ গাড়িটির চালকে আসনে দেখা গেছে। সেতুর কোন অংশে হামলাটি হয়েছে, এ সময় তা নিয়ে প্রশ্ন করতেও দেখা যায় তাকে। 

তেমন একটি ছবি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স, ব্লুবার্গ, দ্য টেলিগ্রাফ। টেলিভিশনে দেখা যায়, গাড়ি চালিয়ে সেতুটি পার হওয়ার সময় পুতিন বলেন, “আমরা ডান দিক দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। যা বুঝলাম সেতুটির বাম পাশে কাজ হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ হওয়া দরকার। এখনও একটু কাজ বাকি আছে, এটিকে আদর্শ অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। এরপর পুতিন সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখার জন্য কিছুটা হেঁটে যান। সেখানে আগুনে ঝলসে যাওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছিল। 

উল্লেখ্য রাশিয়ার ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের আমলে সোভিয়েত রাশিয়া থেকে সোভিয়েত ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন রাশিয়া তা মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া ২০১৪ সালে দ্বীপটিকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে নেয়। তবে ইউক্রেন ক্রিমিয়া ফেরত নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। 

Adnan/sharif