
ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার শ্রমিক-ও-কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি: ১১১৬)-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মোট ৩৫২ জন ভোটারের প্রত্যেকেই ভোট প্রদান করেন—যা শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় পুরোপুরি আইনানুগ প্রক্রিয়া, গঠনতন্ত্র ও শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করে। এতে শ্রমিক সমাজ ও ব্যবস্থাপনার কাছে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তর ও মালিকপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ছিলেন—ফিরোজ, পরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর; নাজিম, শ্রম অধিদপ্তর; মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), বিএসএল সার্ভিস লিমিটেড; এবং মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কোম্পানি সেক্রেটারি, বিএসএল। উপস্থিত পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, ভোট গ্রহণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সার্বিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন।
এ ছাড়া হোটেলের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা (HODs) উপস্থিত থেকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রশংসা জানান।
এ ছাড়া ১১টি পদে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পূর্ণাঙ্গ দুটি প্যানেল না থাকায় এসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।
১৯৬৭ সাল থেকে শ্রমিক কল্যাণে গৌরবময় ইতিহাস
ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ১৯৬৭ সাল থেকে শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ, সুরক্ষা ও ন্যায্যতার জন্য কাজ করে আসছে। মালিক-শ্রমিক ঐক্য, সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এবারের নির্বাচন সেই সুদীর্ঘ ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা।
বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার
নির্বাচন শেষে বিজয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থী একত্রে শ্রমিক কল্যাণ, ঐক্য, পেশাদারিত্ব এবং শান্তিপূর্ণ কর্মপরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন পরিচালনা করতে। ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিদপ্তর এবং সকল কর্মচারীর সহযোগিতায় তা সফল হয়েছে। এটি দেশের শ্রম সংগঠনগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হতে পারে।”
ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার শ্রমিক-ও-কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচন–২০২৫ শুধু একটি নির্বাচন নয়; এটি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ, ঐক্য, দায়িত্ববোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন। পর্যবেক্ষক, ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিদপ্তর এবং কর্মচারী সকলের প্রশংসা প্রমাণ করে—এটি ছিল একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন।
মন্তব্য করুন