সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
তদন্ত রিপোর্ট

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল শেখ হাসিনার, প্রধান সমন্বয়ক তাপস

বৈশাখী ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১২ পিএম

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জড়িত ও মূল মন্বয়ক ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ছিলেন।

এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিশন আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে।

তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান বিডিআরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) আ ল ম ফজলুর রহমান জানান, কাজ শুরু করার সময় ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।

দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সাক্ষীদের ডাকলাম, কারো কারো ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শুনেছি আমরা। যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের তদন্তের রিপোর্ট কালেক্ট করেছি, অন্যান্য এলিমেন্ট কালেক্ট করেছি।”

এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল অ্যাকশন নিল না।

তিনি বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে।

জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, “এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।”

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিলো।

পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিলো বলে জানান তিনি।

তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছে, তাদের সঠিক নাম পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করে, যাতে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভিকটিমরা ন‍্যায় বিচার পায়।

কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন— মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
সচিবালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সচিবালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ছাড়াল ৯২ হাজার
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ছাড়াল ৯২ হাজার
‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা’র স্বপ্নদ্রষ্টা আনিসুল হকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা’র স্বপ্নদ্রষ্টা আনিসুল হকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আজ শেষ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর মহড়া
আজ শেষ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর মহড়া