
ইট-পাথরের এই নগরীর বাসিন্দাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক। অনেক অসাধ্য সাধন করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এই নগরপিতা, কিন্তু ২০১৭ সালের আজকের এই দিনে (৩০ নভেম্বর) ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা’র স্বপ্নদ্রষ্টা ঢাকাকে অপূর্ণ রেখেই চলে যান না-ফেরার দেশে।
প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
আনিসুল হক ২০১৫ সালের ৬ মে ডিএনসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে শপথ নেন। মেয়র হিসেবে তার প্রতিশ্রুতি ছিল নগরকে স্বচ্ছ, সবুজ ও বসবাসযোগ্য করে তোলা। এর অংশ হিসেবে তিনি শহরের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক পার্কিং, বেআইনি বিলবোর্ড, ভগ্ন রাস্তা, ফুটপাত ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসসেবা চালু করেন আনিসুল হক। বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন তিনি।
এছাড়া অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ, রাজধানীর ভেঙে পড়া রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমা নির্মাণ, পুরোনো এবং অগোছালো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বদলে ইউ-লুপ বা ইউ-টার্ন প্রকল্প, কয়েকটি পার্ক পুনরুদ্ধার ও শহরে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন। তার নেওয়া উদ্যোগ ছিল বৃহৎ স্বপ্নের- শহরকে নতুন রূপ দেওয়া, নাগরিক জীবনের মান উন্নয়ন, পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা।
কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্বপ্নগুলো অসমাপ্ত রয়ে যায়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আক্রান্ত হন মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগে। ১৩ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় তিন মাস চিকিৎসা শেষে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র ৬৫ বছর বয়সে তার এই আকস্মিক মৃত্যু পরিবারসহ পুরো রাজধানীকে শোকাহত করেছিল। তার মৃত্যুর ফলে শহরকে বদলে দেওয়ার যে উদ্যোগ তিনি শুরু করেছিলেন, তার বহু কাজই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ডিএনসিসির সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক ১৯৫২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে তিনি সপরিবারে লন্ডনে যান। সেখানে তিনি সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিকের রক্তনালির প্রদাহ) আক্রান্ত হন। ১৩ আগস্ট তাকে সেখানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এদিকে আনিসুল হকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে আনিসুল হক ফাউন্ডেশন।
রোববার স্বপ্নপ্রিয় এই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তার স্মরণে বনানী কবরস্থানে আজ বাদ আসর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী সোসাইটি জামে মসজিদে বাদ মাগরিব আনুষ্ঠনিক দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
আনিসুল হক ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীর কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে তিনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তিনি রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ী হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ছিলেন বিটিভির উপস্থাপক।
পরবর্তীতে তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন মোহাম্মদি গ্রুপ। শুধু ব্যবসায় নয়, বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-তে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন