
সম্পর্কে সুখ আর স্বস্তি কখনোই শুধু বড় আয়োজনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। বরং ছোট ছোট যত্ন, দৈনন্দিন আচরণ আর ছোট ছোট ধন্যবাদ — এসবই আসলে সম্পর্কের মধ্যে কেয়ার আর কৃতজ্ঞতাকে বাঁচিয়ে রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃতজ্ঞতা এমন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি, যা দাম্পত্য সম্পর্কে নিরাপত্তা ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়।
আমাদের সমাজে সঙ্গীর কঠোর পরিশ্রম, রান্নাবানা, ঘর সামলানো বা বাইরে সারাদিনের দৌড়ঝাঁপ — সবই খুব ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার ভিড়েই একটু স্বীকৃতি, সামান্য ধন্যবাদ এবং কয়েক সেকেন্ডের হাসি অনেকটা জাদুর মতো কাজ করে।
কেন ধন্যবাদ এত গুরুত্বপূর্ণ?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সম্পর্কের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো স্বীকৃতি পাওয়া। যখন একজন সঙ্গী অন্যজনের কাজে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের মাত্রা বাড়ে। এগুলোই ‘বন্ডিং হরমোন’, যা সম্পর্ককে আরও নিরাপদ ও উষ্ণ রাখে।
এটাকে বলা যেতে পারে একটি ছোট বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন। কারণ ধন্যবাদ শুনলে মানুষ স্বভাবতই আরও সহযোগী, মনোযোগী এবং ইতিবাচক হয়ে ওঠে। কর্পোরেট ভাষায় বললে, এটা হলো রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টের হাই-ইমপ্যাক্ট, লো-এফোর্ট স্ট্রাটেজি।
ছোট ছোট ধন্যবাদ—বড় পরিবর্তন
১. দুইজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমে স্বীকৃতি পাওয়া মানুষকে শান্ত করে। তাই ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিও সহজে মেটে।
২. মানসিক চাপ কমে সারাদিনের ব্যস্ততার ভিড়ে একটি ধন্যবাদ মানসিকভাবে সঙ্গীকে হালকা করে দেয়।
৩. ইমোশনাল কানেকশন শক্ত হয় এগুলো সম্পর্কের ভরসা বাড়ায়। দুজনেই সম্পর্কে নিজেকে নিরাপদ এবং মূল্যবান মনে করেন।
৪. নেগেটিভিটির বদলে পজিটিভিটি বাড়ে যেখানে কৃতজ্ঞতা আছে, সেখানে অভিযোগ কম হয়।
৫. টিমওয়ার্ক সহজ হয়
পরিবারের কাজগুলোও তখন দায়িত্ব নয়, বরং অংশীদারিত্ব হয়ে ওঠে। তাহলে কোন ছোট ছোট বিষয়ে ধন্যবাদ বলবেন? মজাদার কোনো খাবার বা এক কাপ চা হাতে পেয়ে বলুন ‘ধন্যবাদ’। কিংবা সঙ্গী বাজার করে এলে বলুন।দিনের মধ্যে ফোনে মেসেজ করেও ধন্যবাদ দেওয়া যায় — কোনো নিয়ম নেই। কারণ এটা কোনো অভিনয় নয়। বরং সম্পর্কের প্রতি সচেতনতা ও সম্মান।
মন্তব্য করুন