সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশে আসা নিয়ে যে বার্তা দিলেন তারেক রহমান

বৈশাখী ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৯ এএম

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভায়ার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মায়ের এমন পরিস্থিতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা। তবে সবার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান রেখে দেশে আসার বিষয়ে বাস্তবতা তুলে ধরে নতুন বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সব স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার সর্বত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।’

তিনি আরও লিখেন, ‘দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। একইসঙ্গে জিয়া পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’ দেশে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’ তারেক রহমান লিখেন, ‘স্পর্শ কাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। এরপর করোনাকালে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। যদিও চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। প্রসঙ্গ, খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্টে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

সবশেষ গত রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপাসনকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল
বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা / ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল
তারেক রহমানের দেশে ফেরা আটকে আছে কোথায়?
তারেক রহমানের দেশে ফেরা আটকে আছে কোথায়?
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত: রিজভী
বিদেশ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি / খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত: রিজভী
তিন দিন পর কথা বলেছেন খালেদা জিয়া
তিন দিন পর কথা বলেছেন খালেদা জিয়া