
চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, স্লুইসগেট উন্মুক্ত রাখা এবং জলাবদ্ধতা না থাকায় এ বছর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মাঠজুড়ে ইতোমধ্যেই পাকা ধানের সুবাসে মুখর, কৃষকের মুখেও ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি। কৃষকরা জানান, মৌসুমজুড়ে অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি বা বড় কোনো দুর্যোগ ছিল না। পোকামাকড়ের আক্রমণও ছিল তুলনামূলক কম।
ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় শুরু হয়েছে ধান কাটা; কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো উপজেলায় ধান কাটার ব্যস্ততা দেখা যাবে। তবে ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া এবং স্থানীয় ব্যপারী সিন্ডিকেট নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, কৃষি অফিস থেকে তেমন কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা না পাওয়ায় পুরো মৌসুমেই নিজেদের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করতে হয়েছে। রাঙ্গাবালী কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন জাতের ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে-যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
স্থানীয় কৃষক আবদুল মজিদ বলেন, আবহাওয়া ভালো ছিল। পাশাপাশি স্লুইসগেটগুলো উন্মুক্ত রাখায় জমির পানি ঠিকভাবে নিষ্কাশন হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি। কৃষি অফিসের পরামর্শ পেলে হয়তো আরও ভালো হতো। শ্রমিক সংকট ও ব্যয় বেশি হওয়ায় মেশিনে ধান কাটছি।
আরেক কৃষক জলিল সিকদার বলেন, এ বছর স্লুইসগেট কোনো দলের নেতাকর্মীর দখলে ছিল না। তাই পানি আটকে থাকতে পারেনি। এতে ফসল ভালো হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই ব্যবস্থা বজায় থাকুক।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এই মৌসুমে ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। রাঙ্গাবালী দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো উৎপাদন হয়েছে। আমাদের আমন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন