
পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ পরিচালনা করেছে পুলিশ। এতে মোট ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান।
তার দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় বিশেষ এ অভিযান। প্রথম ধাপে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার দিবাগত রাতে পাবনার ঈশ্বরদী এবং নাটোরের নলডাঙ্গা ও সিংড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত করা হয় এ অভিযান।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এবার ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই জন সর্বহারা গোষ্ঠীর সদস্য, একজন ডাকাতদলের সদস্য, অস্ত্রধারীর সহযোগী ও নিয়মিত মামলার আসামি ২০ জন, মাদক মামলার চার জন, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ২৩ জনসহ সন্দেহভাজন হিসেবে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় অস্ত্র, এক কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, আটটি মামলায় বিচারাধীন নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিঙ্গইন ভাটোপাড়া গ্রামের ডাকাতদলের সদস্য শহিদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযানে। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশ।
অভিযানের সার্বিক তদারকি করেন ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মাঠ পর্যায়ে অংশ নেন রাজশাহী রেঞ্জের দুই অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি), নাটোর ও পাবনার এসপি, সার্কেল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা।
জেলা পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
মন্তব্য করুন